রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন
add

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকদের হাত-পা বেঁধে দিয়েছে

রিপোটারের নাম / ৬৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৪ মে, ২০২২
nagoriknewsbd/photo

এবার বিশ্ব গণমাধ্যম দিবসে ইউনেসকোর মূলমন্ত্র ছিল: জার্নালিজম আন্ডার ডিজিটাল সিজ বা ডিজিটাল অবরোধে সাংবাদিকতা। অভিধাটি বাংলাদেশের সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার জন্য শতভাগ সত্য। আমরা এক অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতেই আছি। সব মাধ্যমেই সাংবাদিকতার বিপদ ওত পেতে থাকে; তবে ডিজিটাল মাধ্যমটির মাথার ওপর খাঁড়া হয়ে ঝুলছে। এই খাঁড়ার নাম হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।

সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৬ মাসে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৮৯০টি মামলা হয়। প্রথম ১৫ মাসে গড়ে ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পরবর্তী ৯ মাসে গড়ে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। আর একক গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় হিসেবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই বেশি মামলা হয়েছে। জরিপে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ মামলা হয়েছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে, রাজনৈতিক নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ, শিক্ষার্থীদের ২ দশমিক ৯১ শতাংশ, শিক্ষক ২ দশমিক ৯১ শতাংশ, বেসরকারি চাকরিজীবী ২ দশমিক ১৮ শতাংশ, ব্যবসায়ী ২ দশমিক ১৮ শতাংশ, সরকারি চাকরিজীবী ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ও আইনজীবী শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ।

আর মামলা যাঁরা করেছেন, অর্থাৎ বাদীরা প্রায় সবাই ক্ষমতাসীন কোনো সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।

২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে আইনটি জারি করার সময় সরকারের একাধিক মন্ত্রী বলেছিলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে অপরাধ দমন করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না। তাঁরা যে কথা রাখেননি, এর প্রমাণ ওপরের পরিসংখ্যান। আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া প দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগই অপপ্রয়োগ। এখানে গুণাগুণ বিচারের কোনো সুযোগ নেই। ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধি অনুযায়ী নেওয়া যায়। এই আইনের প্রয়োজন নেই।

এখন দেখা যাক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কীভাবে সাংবাদিক তথা নাগরিকদের হাত-পা বেঁধে দিয়েছে। এতে বলা হয়, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে আক্রমণাত্মক, মিথ্যা, ভীতিপ্রদর্শক তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ, মানহানিকর তথ্য, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, ঘৃণা প্রকাশ, অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, প্রকাশ বা ব্যবহার করলে দোষী ব্যক্তির ৩ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

আমিরুল মুকিম; নাগরিকনিউজবিডি.কম

 

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ