রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন
add

চট্টগ্রামে অবৈধ দখলদারদের কারণে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প চলছে ধীরগতিতে

রিপোটারের নাম / ৭১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ১১ জুন, ২০২২
nagoriknewsbd/photo

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দখলকৃত খাল সমূহ উদ্ধার ,পুনর্খনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য ২০১৭ সালের আগস্টে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সিডি এর ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন কল্পে খাল পুনর্খনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন ’শীর্ষক একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়। তিনবছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। ২০২০ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফায় দুইবছর সময় বাড়ানো হয়, যা এ বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চট্টগ্রামে বিভিন্ন খালে অবৈধ দখলদাররা অবৈধভাবে খালের উপরে বহুতল ভবন নির্মাণ করার কারণে কাজের অগ্রগতি থমকে আছে। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে খালের পুনরূদ্ধারের কাজ, অন্যদিকে নগরীর পানি নিষ্কাশনের ড্রেজিং ব্যবস্থা ঠিক মত না থাকার কারণে নগরীতে কয়েক ঘন্টা বৃষ্টি হলে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এ দিকে সরেজমিনে দেখা যায় খালের উপর অবৈধ দখল দারের বিষয়টা সত্য। জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে খাল পুনঃ খনন করতে গিয়ে এমনই নিত্য বেগ পেতে হচ্ছে সেনাবাহিনীকে,নগরীর টেরীবাজারের পাশ দিয়ে বদরখালী খালে এমটাই দৃশ্য চোখে পড়ে,খালের উভয় পাশে ১০ মিটার করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার কথা থাকলে ও আসলে তা হচ্ছেনা। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষের (সিডিএ) এর এক নোটিশে দেখা যায় বদরখালী খালের সম্মুখ ভাগে খালের উপওে অবৈধ ভাবে নির্মিত ওরিয়েন্ট টাওয়ার নামিয় ভবনটির উত্তরে ০.৮৬ মিটার রাখার পরিবর্তে ০.০০ মিটার খালি রাখা হয়েছে। দক্ষিণে ০.৮৬ মিটার রাখার পরিবর্তে ০.০০ মিটার খালি রাখা হয়েছে।পূর্বে ১.৫০ মিটার রাখার পরিবর্তে ০.০০ মিটার খালি রাখা হয়েছে।পশ্চিমে (রাস্তার পার্শ্বে) ৬.৫৯ মিঃ, ৩৫.১৬ মিটার রাখার পরিবর্তে ০.৬০ মিঃ ৩১.২২ মিটার খালি রাখা হয়েছে। তাছাড়াও,নির্মিত ভবনটির উত্তর পার্শ্বে অর্থাৎ খালের পার্শ্বে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ০৮৬ মিঃ জায়গা যেখানে অবশ্যই রাখা দরকার সেখানে জায়গা রাখার পরিবর্তে কোন খালের জায়গা না রেখে ১ম তলায় ০.৩০ মিঃ ২য় তলা থেকে ৮ম তলা পর্যন্ত ০.৬০ বর্ধিতকরে খালের উপর বিল্ডিং নির্মাণ করে যেটা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ । এ দিকে সেনাবাহিনীর পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে খালের উপরে ভবনের অবৈধ অংশ ভেংগে ফেলার জন্য সেনাবাহিনী মার্ক করে দিলেও ইমারত টির অবৈধ দখলদার আহমদ হোসাইন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা নাকরে আইনের প্রতি বৃদ্ধাআঙ্গুলী দেখিয়ে ভবনের গায়ে আবার আস্থর করে দে।অন্যদিকে কিছুদিন আগে নগরীর মাঝিরঘাট এলাকায় গুলজার খালের পাড়ে,খাল খননের কাজ চলার মধ্যে পাশের অবৈধ দুটি তিনতলা ও দোতল াভবন হেলেপড়ে।পরবর্তীতে হেলেপড়া ভবন ভেঙ্গে দিয়েছে সিডিএ। খালের পাশে স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে খালের ডানপাশের ভবন ওরিয়েন্ট টাওয়ারের উপরের দেওয়ালে বড়ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে বামপাশে পুরাতন ঐতিহ্যবাহী হাসান মঞ্জিল অর্ধেক ভেঙে ফেলার পর ভাংগা অংশের স্থাপনা গুলো সরিয়ে না ফেললে পুরোদমে বর্ষা আসলে বিল্ডিং এর ময়লা আবর্জনা গিয়ে আবার খাল ভরাট হয়ে যাবে। হাসান মঞ্জিল এর স্বত্বাধিকারী তারিন মহিউদ্দিন আজিম  বলেন, আমাদের ঐতিহ্যবাহী ভবনটির এক-তৃতীয়াংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে এখন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ওপাশের বহুতল ভবনটিতে ও বড়বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে যারফলে যে কোনো মুহূর্তে ভবনগুলো ধসে কিংবা ভেঙেপড়ার সম্ভাবনা রয়েছে,ফলে একদিকে যেমন জনজীবনের ক্ষয়ক্ষতি হবে অন্যদিকে খাল আবার ভরাট হয়ে যাবে। এ ব্যাপাওে সিডিএ ও সিটিকর্পোরেশনের এখনই পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক  বলেন, “সিডিএ বলছে, চলতি মাসের মধ্যে বাঁধগুলো এবং অবৈধ স্থাপনা সরানো সম্ভব। যদি সেটা হয় তাহলে পরিস্থিতি সহনীয় থাকবে। আর না হলে যা হবার তাই হবে। চট্টগ্রামে খালের জায়গায় অবৈধ দখলদার এবং খালের উপওে বহুতল ভবন নির্মাণ চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি কতটুকু জানতে চাইলে কাজ থমকে আছে উল্লেখ করে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্নেল মো. শাহ আলী বলেন, আমরা দুই কিলোমিটার একটি খালের কাজ শেষ করেছি। কিন্তু মাঝখানে ৫০ মিটার জায়গা নিয়ে বিরোধ আছে। বদরখালী খালের ও স্লেবের কাজ প্রায় শেষ ,আপনারা একটু করে খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন খালের মাথার উপর ওরিয়েন্ট টাওয়ার,অবৈধ দখলদাররা সেখানে দখল কওে রয়েছে।স্লেবের কাজ সম্পুর্ণশেষ হলে ভবনটির খালের উপওে অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা হবে । নাহলে এই পুরো কাজটাই কোনো সুফল বয়ে আনবেনা। এ দিকে উচ্চা ভিলাষী এই প্রকল্পের ৩৩ শতাংশ কাজ এখনো বাকি রয়েছে। তাই সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) প্রকল্পের মেয়াদ আরো দেড় বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রকল্প ব্যয় ও বাড়ছে প্রায় দ্বিগুণ। সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের এক সভায় সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান। এ বছর পুরো পুরি জলাবদ্ধতা নিরসননা হলেও আগামী বছর জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন করতে পারব। তবে শুধু খাল খনন করলে হবেনা, কর্ণফুলী নদীতে ড্রেজিং করা না হলে কোনো ভাবেই এই প্রকল্পের সুফল মিলবেনা।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ