ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে এবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ১১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বুধবার (২১ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন সংশ্লিষ্ট তিনজন রিটার্নিং অফিসার। প্রতীক পাওয়ার পরপরই প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। প্রতীক বরাদ্দকে কেন্দ্র করে দিনভর রিটার্নিং অফিসারদের কার্যালয়গুলো প্রার্থী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে মুখর ছিল।
নগরীর তিনটি সংসদীয় আসন এবং নগরীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুইটিসহ মোট পাঁচটি আসনের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। জেলার ১০টি সংসদীয় আসনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এছাড়া চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী।
প্রতীক বরাদ্দের পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে নগরীর রাজপথ, অলিগলি ও প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদে নির্বাচনী প্রচারণা ছড়িয়ে পড়েছে। তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
এদিকে প্রতীক পাওয়ার পর বেশ কয়েকজন প্রার্থী আজ থেকেই গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করেছেন। চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সকাল সাড়ে ১০টায় কদমতলী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কদমতলী মোড় থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান দুপুর আড়াইটায় নাসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয় থেকে প্রচারণা শুরু করেন। চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ নিজ নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রচারণা শুরু করার কথা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ১১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকায় এবারের নির্বাচন ঘিরে নগর ও জেলায় ব্যাপক প্রতিযোগিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।