ছয় দিনের কর্মবিরতির ফলে সৃষ্ট জট নিরসনে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে গতি বেড়েছে। শুক্রবার সকালের একটি জোয়ারেই দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরটিতে একযোগে ২৬টি জাহাজের ইনবাউন্ড ও আউটবাউন্ড মুভমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে, যা বন্দরের ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ওই জোয়ারে বন্দরের জেটিতে অবস্থান করা ১০টি জাহাজ বন্দর ত্যাগ করে এবং বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ ১৬টি জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করে বিভিন্ন জেটিতে বার্থিং নেয়। সাধারণ সময়ে একটি জোয়ারে গড়ে ৮ থেকে ১০টি জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়ে থাকে। কখনো কখনো সংখ্যাটি কিছুটা বাড়লেও একই দিনে মাত্র সোয়া তিন ঘণ্টার জোয়ারে ২৬টি জাহাজের চলাচল সম্পন্ন হওয়া বিরল ঘটনা।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালের জোয়ারে প্রথমে জেটি থেকে ১০টি জাহাজ বহির্নোঙরের উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়। এসব জাহাজ বহির্নোঙর হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা করবে। জেটি খালি হওয়ার পর বেলা ১১টা ৩ মিনিটে গ্যাসবাহী এমটি সোয়ান প্যাসিফিক নামের জাহাজটি বন্দর চ্যানেল ধরে প্রবেশ করে সিইউএফএল জেটিতে বার্থিং নেয়। এরপর একে একে আরও জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করতে থাকে। সর্বশেষ দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে জোয়ার শেষ হওয়ার আগে এমভি আমওয়াজ নামের জাহাজটি জেটির উদ্দেশে যাত্রা করে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে কেবল সকালের জোয়ারেই জাহাজ চলাচল হয়। নাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা না থাকায় রাতের জোয়ারে কোনো জাহাজের আগমন বা প্রস্থান সম্ভব হচ্ছে না। তবে সীমিত সময়ের মধ্যেই সর্বোচ্চ সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা হয়েছে। জাহাজগুলো জেটিতে ভেড়ার পরপরই পণ্য খালাস ও বোঝাই কার্যক্রম শুরু করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, কর্মবিরতির কারণে সৃষ্ট জট দ্রুত কাটিয়ে উঠতে বন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে। জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের পাশাপাশি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ও ডেলিভারি কার্যক্রমেও গতি ফিরেছে।
তিনি আরো জানান, শুক্রবার বন্দরের ইয়ার্ডে মোট ৩৬ হাজার ৭০৮ টিইইউএস কন্টেইনার অবস্থান করছিল। এর মধ্যে ফুল কন্টেইনার লোড ছিল ২৯ হাজার ৬৫১ টিইইউএস, ডিপোতে ১ হাজার ৩৪০ টিইইউএস, এলসিএল ১ হাজার ৩৮ টিইইউএস, আইসিডিমুখী ১ হাজার ৬৭৮ টিইইউএস, আইসিটিতে যাওয়ার জন্য ১০৫ টিইইউএস, খালি কন্টেইনার ২ হাজার ৭৮ টিইইউএস এবং রপ্তানি কন্টেইনার ৮১৮ টিইইউএস। বন্দরের মোট ধারণক্ষমতা ৫৯ হাজার টিইইউএস হওয়ায় বর্তমান কন্টেইনার পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইতিমধ্যে ২ হাজার ২৪৭ টিইইউএস কন্টেইনার ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে এবং শনিবারের জন্য ২ হাজার ৮২৬ টিইইউএস কন্টেইনার ডেলিভারি নির্ধারণ করা হয়েছে। বন্দর কর্মকর্তারা জানান, সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে জট নিরসন হচ্ছে এবং বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে ফিরছে।
এদিকে আমদানি–রপ্তানিকারক ও শিপিং সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের আমদানি–রপ্তানি খাত বর্তমানে চাপে রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্দর কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক করা না গেলে এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।