বিএনপির দলীয় শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও দলের প্রতি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও আবেগী সম্পর্কের টান অটুট রেখেছেন শফিকুল ইসলাম রাহী। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি রোববার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিল সহকারে অংশ নেন এবং বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের বক্তব্য শোনেন। তার এই উপস্থিতিকে রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও দায়িত্বশীল আচরণের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় শফিকুল ইসলাম রাহী বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। দলের দুঃসময়ে মাঠে সক্রিয় থেকে সংগঠন ধরে রাখার দায়িত্ব পালন করলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া আংশিক) আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পরিবর্তে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
তবে বহিষ্কারের পরও বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ, নেতৃত্ব ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি তার শ্রদ্ধাশীল অবস্থান অব্যাহত রয়েছে পলোগ্রাউন্ডের জনসভায় তার অংশগ্রহণ সেই বিষয়টিই স্পষ্ট করেছে। জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও মিছিল সহকারে যোগদান সমাবেশে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
জনসভা প্রাঙ্গণে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে ধরছেন। কেউ কুশল বিনিময় করছেন, কেউ স্মৃতিচারণ করছেন অতীত আন্দোলনের দিনগুলোর কথা। বহিষ্কারের বিষয়টি আলোচনায় এলেও পরিবেশ ছিল শান্ত ও সংযত। অনেক নেতাকর্মীই বলছিলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আলাদা হতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ত্যাগের ইতিহাস আলাদা বিষয়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শফিকুল ইসলাম রাহী বলেন,“আমি আজ প্রথমবার নয়, গত ১৭–১৮ বছর ধরে বিএনপির প্রতিটি আন্দোলন ও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলাম। প্রায় দুই দশক পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য পুত্র জনাব তারেক রহমান চট্টগ্রামে এসেছেন। তাঁর এই কর্মসূচিতে উপস্থিত না থাকলে নিজের বিবেকের কাছেই দায়বদ্ধ থাকতে হতো।”
তার বক্তব্যে কোনো অভিযোগ বা ক্ষোভের সুর ছিল না; বরং ছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার স্বাভাবিক প্রকাশ। তিনি ইঙ্গিত দেন, রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকলেও বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও দলীয় ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা জরুরি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শফিকুল ইসলাম রাহীর এই উপস্থিতি সমসাময়িক রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও শান্তিপূর্ণভাবে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ। এতে তৃণমূল পর্যায়ে বিভাজনের পরিবর্তে সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ তৈরি হয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের ধারণা, মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় নেতাদের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ত্যাগ ও সময়ের মধ্য দিয়ে। সেই সম্পর্ক সহজে ভাঙে না। শফিকুল ইসলাম রাহীর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
উল্লেখ্য, শফিকুল ইসলাম রাহী একজন সিআইপি এবং তিনি চট্টগ্রাম-১৪ আসনে মোটরসাইকেল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উতরাই থাকলেও আদর্শ, দায়িত্ববোধ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের জায়গায় তিনি এখনো সক্রিয় পলোগ্রাউন্ডের সেই মিছিলই তার বাস্তব প্রমাণ।
তাপস বড়ুয়া/নাগরিক নিউজ