1. admin@nagoriknewsbd.com : admin :
  2. nagoriknewsctg@gmail.com : Kamrul Hossain : Kamrul Hossain
  3. hossainkamrul92@gmail.com : Kamrul Hossain : Kamrul Hossain
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
একজন মহা বীরের বিদায়, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ইরানে সারোয়াতলীতে মাস্টারদা সূর্য সেন ও বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারের ৯৩ তম ফাঁসি দিবস পালন চকরিয়ায় তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ভাষা শহিদদের প্রতি বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদের শ্রদ্ধাঞ্জলি “চার মাসেই ফের চট্টগ্রামে বিতর্কিত নাজির জামাল: প্রশাসনে তীব্র সমালোচনা” প্রবীণ সাংবাদিক মুছা খালেদ আর নেই PCIU teacher joins CPEC 2026 Int’l conference as keynote speaker ২৯৭টি আসনে বিএনপি ২০৯, জামায়াত ৬৮, এনসিপি ৬ আসনে জয়ী কক্সবাজারে বনভূমি দখলে বিপর্যয় ৩৯ শতাংশ বন উজাড়, নীরব প্রশাসন—বাড়ছে পরিবেশ ঝুঁকি চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট স্থগিত
শিরোনাম :
একজন মহা বীরের বিদায়, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ইরানে সারোয়াতলীতে মাস্টারদা সূর্য সেন ও বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারের ৯৩ তম ফাঁসি দিবস পালন চকরিয়ায় তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ভাষা শহিদদের প্রতি বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদের শ্রদ্ধাঞ্জলি “চার মাসেই ফের চট্টগ্রামে বিতর্কিত নাজির জামাল: প্রশাসনে তীব্র সমালোচনা” প্রবীণ সাংবাদিক মুছা খালেদ আর নেই PCIU teacher joins CPEC 2026 Int’l conference as keynote speaker ২৯৭টি আসনে বিএনপি ২০৯, জামায়াত ৬৮, এনসিপি ৬ আসনে জয়ী কক্সবাজারে বনভূমি দখলে বিপর্যয় ৩৯ শতাংশ বন উজাড়, নীরব প্রশাসন—বাড়ছে পরিবেশ ঝুঁকি চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট স্থগিত

চালকদের ভয় ‘জাঙ্গালিয়া’: প্রাণহানি কমাতে দ্রুত ৪ লেন নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে

  • বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
চট্টগ্রাম: মৃত্যুকূপ নামে খ্যাত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া এলাকা। সেখানে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে মারাত্মক সব দুর্ঘটনা। ঝুঁকিপূর্ণ ও দূর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে চট্টগ্রাম বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে ‘লাল পতাকা’ সতর্কতা সংকেত জারি করেও চালকদের বেপরোয়া গতি কোনভাবেই থামানো যাচ্ছে না।

সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা সংগঠনের আন্দোলন এবং দাবির প্রেক্ষিতে অবশেষে ৪ লেনে উন্নীত হচ্ছে এ সড়ক। দুর্ঘটনাপ্রবণ জাঙ্গালিয়াকে নিরাপদ ও গতিশীল করতে চার লেন বিশিষ্ট মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।

গত ১৬ নভেম্বর জাঙ্গালিয়া এলাকায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেল গতিরোধকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে সাকিবুল হাসান (২৫) নামে এক পর্যটক নিহত হন। গত ঈদুল ফিতরের দিন থেকে ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে একইস্থানে ৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ১৬ জনের প্রাণহানি ও ২০ জন আহত হন। ২০২০ সালের ২১ মার্চ একই স্থানে লবণবোঝাই ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে লেগুনার ১৫ যাত্রী নিহত হয়। এছাড়া জাঙ্গালিয়ায় প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

কেন এত দুর্ঘটনা

ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, দুইপাশে ঘন বনাঞ্চল, লবণবাহী ট্রাক থেকে নিঃসৃত পানি, অপ্রশস্ত সড়ক, ঢালু সড়ক ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা চালকদের এই সড়কের ব্যাপারে অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে জাঙ্গালিয়া সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিং, অপ্রশিক্ষিত চালক, গাড়ির এলইডি হেডলাইটের আলো, মহাসড়কে নিষিদ্ধ ছোট যানবাহন চলাচল, ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলাচল ও সড়কে দুইপাশ অসমান হওয়ার কারণে এই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে বেশি।

জাঙ্গালিয়াসহ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অধিকাংশই মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ হারানো, মোটরসাইকেল দুঘটনা ও ক্রসিং সংক্রান্ত। অনেক দুর্ঘটনা ঘটে অন্ধকারে বা যানজটের সময় হঠাৎ লেন পরিবর্তনের কারণে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা জাঙ্গালিয়ায় ৯০০ মিটার সড়ক ৪ লেনে উন্নীত ও মাঝখানে ডিভাইডার দেওয়া হবে। এছাড়া সাতকানিয়া রাস্তার মাথা এলাকা থেকে জাঙ্গালিয়ার আগে পর্যন্ত মহাসড়কের ৩৪ ফিট রাস্তা প্রশস্ত করা হবে। এ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

এসড়কে চলাচল করা বেশ কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা হয় । দুর্ঘটনা শিকার হানিফ পরিবহনের চালক ইমরান হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার খবর শুনতে শুনতে এখন জাঙ্গালিয়া এলাকা এলেই মনের মধ্যে ভয় অনুভব হয়। কিছুদিন আগে আমি নিজেও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলাম। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে জাঙ্গালিয়া এলাকায় অপরদিক থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা আরেকটি বাসের সঙ্গে আমার বাসের পেছনের অংশে ধাক্কা লাগে। এতে আমার গাড়ি সড়ক থেকে ঘুরে গিয়ে ডিভাইডারে গিয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। আমি এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হই। এছাড়া যাত্রী নিয়ে দৈনিক এক থেকে দুইবার এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত আমার। প্রায় সময় দেখি এ এলাকায় গাড়ি দুমড়ে মুচড়ে পড়ে আছে।

চালক ও চালকের সহযোগীরা জানান, জাঙ্গালিয়াসহ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীত হলে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ, প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত সংকট দূর হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নেতারা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি ইউনিয়নের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা ৪ লেনে উন্নীত ও সাতকানিয়া রাস্তার মাথা এলাকা থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত ৩৪ ফুট করে প্রশস্ত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমবে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার দাবিও জানিয়ে আসছি। পুরো মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত হলে যাত্রী এবং পণ্যের নিরাপদ ও দ্রুত পরিবহন নিশ্চিত হবে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ্উদ্দীন চৌধুরী    জানান, জাঙ্গালিয়া অংশে ৯০০ মিটার ৪ লেনে উন্নীত ও সাতকানিয়া রাস্তার মাথা এলাকা থেকে জাঙ্গালিয়ার আগে পর্যন্ত সড়কের উভয়পাশে ৫ ফুট প্রশস্ত করার প্রকল্পটি টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত কাজ শুরু হবে।

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেন বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়কারী কলিম উল্লাহ করিম জানান, কক্সবাজার পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে ভ্রমণে আসেন লাখো পর্যটক। মহাসড়কের চকরিয়াসহ বিভিন্ন অংশে প্রতিদিন কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে। এই মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত প্রাণহানি বন্ধ করা সম্ভব হবে না। ছয় লেনে উন্নীত করে মানুষের জীবন বাঁচানো জরুরি। আমরা গত দুইমাস ধরে মহাসড়কটি ছয় লেইন করার দাবিতে নানান কর্মসূচি পালন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে দাবি পেশ করেছি। আমরা চাই, মানুষের প্রাণ বাঁচাতে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি অনতিবিলম্বে ছয় লেনে উন্নীত করা হোক।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোহাইব বলেন, শুধু জাঙ্গালিয়া নয়, মিঠার দোকান ও আজিজনগর; এ তিনটি স্থান বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ। এছাড়া এই সড়কে রাতের বেলায় লবণ পরিবহন করা হয়। লবণ পানি পড়ে সড়কটি পিচ্ছিল হয়ে যায়। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পর্যটকবাহী যানবাহনের চালকেরা এই সড়ক সম্পর্কে অবগত থাকেন না বলেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারেন না।

গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়কটি চার লেন বা ছয় লেনে উন্নীত করতে হবে। অল্পটুকু জায়গা ৪ লেন করে দায় সারলে হবে না। বিপজ্জনক বাঁক, সংকীর্ণতা, অবৈধ দখল এবং বেপরোয়া যান চলাচলের কারণে প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনা কমানোর একমাত্র কার্যকর সমাধান মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও দক্ষ ড্রাইভিং নিশ্চিত করতে হবে-বলেন তিনি।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

আরো খবর দেখুন...
© All rights reserved © 2024 nagoriknewsbd
Theme Customized By BreakingNews