রাজধানীর মোহাম্মদপুরে লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তাঁর মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তাদের বাসার নতুন গৃহকর্মী আয়শা (২০-২৫ বছর বয়সী) পলাতক রয়েছেন।হত্যাকাণ্ডের বিবরণ
সময় ও স্থান: সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের ৩২/২/এ নম্বর বাড়ির সপ্তম তলার বাসায় ঘটনাটি ঘটে।
আবিষ্কার: লায়লার স্বামী (একটি স্কুলের শিক্ষক) এ জেড আজিজুল ইসলাম ডুপ্লিকেট চাবি নিয়ে তালা খুলে বাসায় ঢুকে স্ত্রী ও সন্তানকে ফ্লোরে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।হতাহত:মা লায়লা আফরোজ ঘটনাস্থলেই মারা যান।
মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।সন্দেহ ও আলামত
গৃহকর্মী পলাতক: মাত্র চার দিন আগে নিয়োগপ্রাপ্ত গৃহকর্মী আয়শা হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পলাতক।সিসিটিভি ফুটেজ: বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মাস্ক পরা আয়শা কাঁধে ব্যাগ নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যাচ্ছেন এবং বাসার সামনে একটি রিকশায় উঠছেন। এই কারণে তাকেই প্রধান সন্দেহভাজন মনে করা হচ্ছে।
অন্যান্য আলামত: পুলিশ ঘটনাস্থলে লায়লার লাশের পাশে রক্তমাখা দুটি ছুরি খুঁজে পেয়েছে।তছনছ অবস্থা: ঘরের দুটি আলমারি, ভ্যানিটি ব্যাগসহ অন্যান্য আসবাবপত্র তছনছ অবস্থায় পাওয়া গেছে।পুলিশের বক্তব্য
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজানে জানিয়েছেন:হত্যাকাণ্ডের সময় কতজন জড়িত ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
কেবল গৃহকর্মীই জড়িত, নাকি অন্য কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।রক্তমাখা দুটি ছুরি পাওয়ায় কেবল একজনই জড়িত কি না, সে বিষয়েও সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ বর্তমানে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে।