হাইকোর্টের নির্দেশে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন আকাশের মনোনয়নপত্র বহাল রাখা হয়েছে। এর ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে তার আর কোনো আইনগত বাধা রইল না।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে বিচারপতি আনোয়ারুল ইসলাম ও রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ইঞ্জিনিয়ার নেজাম উদ্দিনের অনুকূলে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে গত ১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একটি যৌথ ই-ট্রেড লাইসেন্সের বার্ষিক নবায়ন ফি খেলাপির অভিযোগে চট্টগ্রাম-১১ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হলে ১২ জানুয়ারি আপিল শুনানিতেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল বহাল রাখে নির্বাচন কমিশন। পরে ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ইঞ্জিনিয়ার নেজাম উদ্দিন। রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে প্রার্থিতা পুনর্বহালের আদেশ দেন।
রায় পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের মাত্র কয়েক মিনিট আগে হঠাৎ করে যৌথ ই-ট্রেড লাইসেন্সের নবায়ন ফি নিয়ে অভিযোগ তুলে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। আলহামদুলিল্লাহ, হাইকোর্ট আজ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “গণঅধিকার পরিষদ গণমানুষের দল। আমি বিশ্বাস করি, চট্টগ্রাম-১১ বন্দর-পতেঙ্গা আসনের মানুষ বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে গণঅধিকার পরিষদকেই বেছে নেবে।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে গণঅধিকার পরিষদের চূড়ান্ত মনোনয়ন পান দলটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন আকাশ। তিনি ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে ১ জানুয়ারি যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়ে বহাল হলো।