দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের কেন্দ্রে সাদেকুর রহমান
অভিযোগের মাঝেই পদোন্নতি ও লোভনীয় পোস্টিং পেলেন সাদেকুর
সুফল প্রকল্পে অনিয়ম: বাগান না করেই অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ
দুর্নীতির পুরস্কার হিসেবে ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের দায়িত্ব?
বন বিভাগের প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মূল সদস্য সাদেকুর রহমান
তদন্তের বদলে বদলি ও পদোন্নতি, প্রশ্নের মুখে বন বিভাগ
গণমাধ্যমের ফোন এড়িয়ে গেলেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা সাদেকুর
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার: বিতর্কিত কর্মকর্তার ‘প্রাইজ পোস্টিং’
বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে সংঘবদ্ধ একটি চক্র দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই চক্রটি বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, ‘সুফল (টেকসই বন ও জীবিকা)’ প্রকল্পের আওতায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বাগান সৃষ্টি না করে দেড় কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বন অধিদপ্তরের একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। গত এক বছর ধরে বিষয়টি বন বিভাগে ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও কোনো তদন্ত হয়নি। বরং অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা সাদেকুর রহমানকে শাস্তির বদলে সম্প্রতি ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
পদোন্নতির পাশাপাশি তাকে বন বিভাগের লোভনীয় পোস্টিং হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ধামাচাপা দিতে নানা তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বন বিভাগের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিটের বিরুদ্ধেও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সামনে এসেছে।
সূত্র জানায়, গত ২৬ নভেম্বর উপবন সংরক্ষক উম্মে হাবিবা চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলামের কাছে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের কুমিরা রেঞ্জে ৭০ ও ১০ হেক্টরের দুটি বাগান সৃষ্টিতে ব্যর্থতার জন্য দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামের তালিকা সাত দিনের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে পত্র পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো জবাব পাঠানো হয়নি।
এর আগে ২২ এপ্রিল পাঠানো আরেক চিঠিতে উম্মে হাবিবা উল্লেখ করেন, ২০২৩–২০২৪ অর্থবছরে কুমিরা রেঞ্জের কুমিরা বিটে ১৭০ হেক্টর দ্রুত বর্ধনশীল বাগানে জীবিত চারার হার মাত্র ৬০.২০ শতাংশ, যেখানে ন্যূনতম ৮০ শতাংশ থাকার কথা। একই রেঞ্জের ১০ হেক্টরের আরেকটি বাগানে জীবিত চারার হার পাওয়া যায় ৫০.৪০ শতাংশ, যা সন্তোষজনক নয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
সূত্রের দাবি, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ডেপুটি রেঞ্জার সাদেকুর রহমানসহ তিন কর্মকর্তা এই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত। সরকারের দেড় কোটি টাকা লুট করেও তারা পদোন্নতি ও আকর্ষণীয় পোস্টিং পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে বন বিভাগে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন—কক্সবাজার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান, উপবন সংরক্ষক (ডিসিএফ) এস. এম. কায়চার (বর্তমানে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকো-পার্ক, চট্টগ্রামের পরিচালক) এবং সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জয়নাল আবেদীন, যিনি বর্তমানে সিলেট বন বিভাগের হবিগঞ্জে কর্মরত।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাদেকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে পরে কথা বলবেন বলে বার্তা পাঠান।
সূত্র আরও জানায়, বরাদ্দের সব অর্থ উত্তোলনের পর এই তিন কর্মকর্তাকে বদলি ও পদোন্নতির মাধ্যমে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ দেওয়া হয়েছে—এস. এম. কায়চারকে চট্টগ্রাম, সাদেকুর রহমানকে কক্সবাজার এবং জয়নাল আবেদীনকে সিলেটে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিটের উপবন সংরক্ষক উম্মে হাবিবার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠলেও তিনি গণমাধ্যমকে তা অস্বীকার করেছেন।
প্রিয় পাঠক: বন বিভাগের অনিয়ম দুর্নীতি সহ কক্সবাজার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদেকুর রহমানের আরো দুর্নীতির ফিরিস্তি দেখুন ২য় পর্বে।