শেষ পর্যন্ত আমি মাঠে থাকবো ইনশাআল্লাহ। কারণ এই নির্বাচন আমার কাছে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ কিংবা আপসের বিষয় নয়। জনগণের রায় জানার জন্য, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করার জন্যই আমি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নির্বাচনে নেমেছি। আমাকে ঘিরে কিছু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে—সেগুলো পরিষ্কার করা আমার দায়িত্ব মনে করছি।
আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নই, দলীয় কাঠামোর বাইরে থেকেই জনগণের শক্তিকে ভরসা করে নির্বাচন করছি। আমাকে কেন্দ্র থেকে বসিয়ে দেওয়া হবে কিংবা ভোটের আগেই সমঝোতা হবে—এ ধরনের কথার কোনো ভিত্তি নেই। আল্লাহ যদি জীবন দেন, তাহলে শেষ পর্যন্ত আমি মাঠে থাকবো ইনশাআল্লাহ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রাহী। নির্বাচনী মাঠে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে গণসংযোগ চলাকালে তাকে ঘিরে ছড়ানো অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে তিনি সম্প্রতি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
তিনি জানান, একটি অপপ্রচারে বলা হচ্ছে তাকে কেন্দ্র থেকে বৈঠক করে বসিয়ে দেওয়া হবে। তবে তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো তাকে ইতোমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রাথমিক সদস্যও নন। ফলে দলীয় নির্দেশনা কিংবা কেন্দ্রীয় কোনো চাপ মানার মতো সাংগঠনিক বাধ্যবাধকতা তার নেই।
অন্য একটি অপপ্রচারে বলা হচ্ছে, ভোটের আগেই তিনি অন্য প্রার্থীর সঙ্গে সমঝোতায় যাবেন। এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভোটের আগে কোনো প্রকার আপস বা সমঝোতার প্রশ্নই আসে না। নির্বাচন শেষে পরিস্থিতি অনুযায়ী আলোচনা হতে পারে, তবে জনগণের রায় গ্রহণের আগে কোনো সমঝোতা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
এছাড়া তাকে নিয়ে আরও প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে তিনি এলডিপি কিংবা জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন করছেন। এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭–১৮ বছর ধরে তিনি আদর্শিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং কোনো গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য তিনি মাঠে নামেননি।
তিনি আরও বলেন, জয়–পরাজয় যাই হোক না কেন জনগণের সঙ্গে তার সামাজিক সম্পর্ক আজীবন অটুট থাকবে। নির্বাচনের আগে যেমন মানুষের পাশে ছিলেন, নির্বাচনের পরেও ঠিক তেমনই থাকবেন বলে জানান তিনি।
আরেকটি অপপ্রচারে বলা হচ্ছে তিনি ভোটের দিন পর্যন্ত মাঠে থাকবেন না। এর জবাবে তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দেন, সৃষ্টিকর্তা যদি নির্বাচনের আগে তাকে মৃত্যু না দেন, তাহলে পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখতে পারবে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি অটল থাকার কথা জানান।
শেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম–১৪ এলাকার মানুষের পাশে ছিলেন সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমান মনোনয়ন প্রক্রিয়া এবং নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ভয়, চাপ কিংবা অপপ্রচারের রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাস করেন না। জনগণই ঠিক করবে আটজন প্রার্থীর মধ্যে কাকে সংসদে পাঠাবে। জনগণের রায় মাথায় নিয়েই তিনি শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন, ইনশাআল্লাহ।
তাপস/নাগরিক