ডাক্তার ছাড়াই ডেলিভারি: কর্ণফুলীতে নবজাতকের মৃত্যু, অসিত কুমারের ‘অনুপস্থিতি’ই কালমা ও শিশু
হাসপাতালে চিকিৎসক নেই, তবু চলছে ডেলিভারি—ঝরে গেল নবজাতকের প্রাণ অনভিজ্ঞ নার্সের হাতে ডেলিভারি
কর্ণফুলীতে শিশুমৃত্যু: পরিচালক অসিত কুমারের দায় কোথায়?চিকিৎসকশূন্য হাসপাতালেই প্রসব: কর্ণফুলীতে নবজাতকের মৃত্যুতে তোলপাড়
ডাক্তার ছাড়াই ডেলিভারির অভিযোগে কর্ণফুলীতে নবজাতকের মৃত্যু, হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা
শিকলবাহা মা ও শিশু হাসপাতালের বৈধতা কী? ডাক্তার ছাড়াই ডেলিভারিতে নবজাতকের মৃত্যু
লাইসেন্স ও জনবল নিয়ে প্রশ্ন: কর্ণফুলীতে ডাক্তারবিহীন হাসপাতালে শিশুমৃত্যু
সিভিল সার্জনের নজরদারি কোথায়? কর্ণফুলীতে অনভিজ্ঞ নার্সের হাতে ডেলিভারিতে মৃত্যু
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা মা ও শিশু হাসপাতালে কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক ছাড়াই অনভিজ্ঞ নার্স ও প্যারামেডিকের মাধ্যমে ডেলিভারি করানোর চেষ্টাকালে এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নবজাতকের স্বজনদের অভিযোগ, প্রসবের সময় হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। অনভিজ্ঞ জনবল দিয়ে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা চালানো হলে প্রসবের পর কন্যাশিশুটি মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়।
নবজাতকের পিতা এরফানুল হক জানান, শুক্রবার বিকেলে তার স্ত্রীর প্রসববেদনা শুরু হলে তাকে শিকলবাহা মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি ফি বাবদ ৩০০ টাকা নেওয়া হয়। এরপর কথিত চিকিৎসক তানভীর সুলতানা মুন্নি ও আলিয়া আক্তার নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, ডেলিভারির আগ পর্যন্ত শিশুটির হার্টবিট স্বাভাবিক ছিল। চিকিৎসক ছাড়া এবং অনভিজ্ঞ জনবল দিয়ে ডেলিভারি করানোর কারণেই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ডেলিভারির সময় দায়িত্বে থাকা তানভীর সুলতানা মুন্নি নিজেকে হাসপাতালের মিডওয়াইফ (ধাত্রী) এবং আলিয়া আক্তার প্যারামেডিক হিসেবে পরিচয় দেন। তবে ঘটনার সময় কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না—এ বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. অসীত কুমার বলেন, সাধারণত ডেলিভারির সময় তিনি নিজে উপস্থিত থাকেন। তবে অসুস্থতার কারণে ওইদিন হাসপাতালে যেতে পারেননি। ডাক্তার অনুপস্থিত থাকা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
ঘটনার পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নিহতের স্বজনদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও দেখা গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেসা বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের গাফিলতি প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম জানান, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।