নবীন শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (পিসিআইইউ)। নতুন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এক ওরিয়েন্টেশন ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অতিথিবৃন্দের উপস্থিতিতে আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. মজিবুর রহমান। গেস্ট অব অনার হিসেবে অংশ নেন পিসিআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ও সদস্য জহির আহমেদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূইয়া, মোহাম্মদ আলী আজ্জম স্বপন এবং খান মো. আক্তারুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী। ওরিয়েন্টেশন স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন বায়োফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. লকিয়ত উল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এম. মজিবুর রহমান নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন একজন শিক্ষার্থীর চিন্তা শক্তি উন্নত, জ্ঞান আহরণ ও ব্যক্তিত্বকে সমৃদ্ধ করে । ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম শিক্ষাজীবনের ভিত্তি মজবুত করার শুরুর ধাপ হিসেবে কাজ করে। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত বদলে যাচ্ছে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণদের সামনে যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনি চ্যালেঞ্জও বাড়াচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিয়মিত পরিশ্রম এবং আত্মশক্তিকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে হবে। ভাষাগত দক্ষতা, যোগাযোগ ক্ষমতা এবং এআই ব্যবহারে সচেতন হওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন এবং শেখার প্রতিটি ধাপে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
ওরিয়েন্টেশন স্পিকার ড. লকিয়ত উল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি। ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও আত্মপ্রেরণাই সাফল্যের আসল চালিকা শক্তি। ডিজিটাল মিডিয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে নিজেদের দক্ষতা বাড়িয়ে বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে বলেন। সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়া, নিজের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজে যুক্ত হওয়া এবং বিষয়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞতা অর্জনের পরামর্শও দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শিক্ষার্থীর মনোভাব, আচরণ ও ব্যক্তিত্ব গঠনের প্রক্রিয়া। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সক্ষমতা আবিষ্কার করতে পারবে এবং দায়িত্বশীল, চিন্তাশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। তিনি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখার মানসিকতা তৈরির ওপর জোর দেন। সঠিক পরিকল্পনা, দৃঢ় মনোবল এবং সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাগত ও পেশাগত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া, মোহাম্মদ আলী আজম স্বপন, খান মো. আক্তারুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার মফজল আহমেদ এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান দীপক কুমার চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. ওবায়দুর রহমান। এছাড়া পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সেলিম হোসেন, বিভিন্ন বিভাগের কো-অর্ডিনেটর, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে একাডেমিক নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনামূলক সেশন ছাড়াও দুপুরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল ফোরামের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যা নবীনদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সূচনাকে আরও আনন্দমুখর করে তোলে।
ইমন/তাপস/নাগরিক নিউজ