চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীরাই গেমচেঞ্জার, চাপে বিএনপি
তাপস বড়ুয়া, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে সংসদ নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি প্রার্থী জসীম উদ্দিন ও এলডিপি প্রার্থী মো. ওমর ফারুকের মধ্যে হলেও, নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি এখন এই আসনে চাপে রয়েছে।
এ আসনে বিএনপির সাবেক দুই নেতা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুল হক চৌধুরী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম রাহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দুজনকেই বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কারের পরও তারা নির্বাচনি দৌড়ে সক্রিয় রয়েছেন এবং নিজেদের ব্যক্তিগত প্রভাব ও সাংগঠনিক শক্তির ওপর ভর করেই ভোট চাইছেন।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি চন্দনাইশ উপজেলা ও সাতকানিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। মোট ভোটারের বড় অংশ চন্দনাইশ উপজেলায় হলেও সাতকানিয়ার ছয় ইউনিয়নের প্রায় ৯০ হাজার ভোট এই আসনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয়দের মতে, এই সাতকানিয়া অংশেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ও আঞ্চলিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন মিজানুল হক চৌধুরী। সে সময় তিনি উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনে তিনি ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও স্থানীয় ভোটারদের মতে, তার পুরোনো পরিচিতি ও আঞ্চলিক গ্রহণযোগ্যতা এখনো রয়েছে। যদিও প্রচারণায় তাকে খুব বেশি সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না, তবুও তার উপস্থিতি ধানের শীষের সম্ভাব্য ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
অন্যদিকে শফিকুল ইসলাম রাহী দীর্ঘদিন ধরে নিজ এলাকায় সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় তার একটি নির্দিষ্ট সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। তিনি দাবি করছেন, বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের বড় একটি অংশ তার সঙ্গে রয়েছে। বিএনপি প্রার্থী জসীম উদ্দিনের মনোনয়ন ঘিরে দলের ভেতরে যে অসন্তোষ রয়েছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের মাঠে থাকার পেছনে সেটিও একটি বড় কারণ বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় ভোটারদের বড় একটি অংশের ধারণা, বিদ্রোহী প্রার্থীরা যে ভোটই পাক না কেন, তার বড় অংশ বিএনপির মূল ভোটব্যাংক থেকেই যাবে। এতে সরাসরি সুবিধা পেতে পারেন এলডিপি প্রার্থী মো. ওমর ফারুক। ইতোমধ্যে জামায়াতসহ কয়েকটি শরিক দলের কর্মীরা এলডিপির পক্ষে মাঠে সক্রিয় থাকায় বিএনপির ভেতরের এই বিভাজন নির্বাচনের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে বিএনপি প্রার্থী জসীম উদ্দিনের মনোনয়ন ঘিরে শুরু থেকেই এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। অতীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়া এবং কারাবাসের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এসব কারণে দলের একটি অংশ তার মনোনয়নে অসন্তুষ্ট ছিল , যা বিদ্রোহী প্রার্থীদের উত্থানে ভূমিকা রেখেছে।
তবে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনের ফলাফলে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারবেন না। দলের নেতারা বলছেন, সাধারণ ভোটাররা শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রতীক ধানের শীষের পক্ষেই অবস্থান নেবেন।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপি ও এলডিপির সরাসরি লড়াইয়ের বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি নির্বাচনি সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। ভোটের ব্যবধান কম হলে এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটই যে শেষ পর্যন্ত গেমচেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না স্থানীয় ভোটাররা।