ইরানের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার (১ মার্চ) ভোরে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তিনি নিহত হন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তেহরানের ‘লিডারশিপ হাউস’ কমপাউন্ডের কিছু অংশে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই কমপাউন্ডটিই ছিল খামেনির কার্যালয় ও সরকারি আবাসস্থল।
এদিকে, ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী (আইআরজিসি)-ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, নিজ কার্যালয়ে তার মৃত্যু প্রমাণ করে যে, তাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ‘লুকিয়ে থাকার’ খবর ছিল শত্রুপক্ষের ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের’ অংশ।
দেশজুড়ে মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনগুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে শোকমিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। লাখো মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। ইরানের পরবর্তী নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক অবস্থান এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় ঘোষণা অনুযায়ী, তার জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শিগগিরই সম্পন্ন হবে। ৪০ দিনের শোককালজুড়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি সীমিত রাখা হবে।
ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে দীর্ঘ সময় প্রভাব বিস্তারকারী এই নেতার মৃত্যু দেশটির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।