চট্টগ্রাম ব্যুরো:
চট্টগ্রামের কাপ্তাই হ্রদ-এ অনাবৃষ্টি ও তীব্র তাপদাহের কারণে পানি সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র-এর উৎপাদন কার্যক্রম।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত কেন্দ্রটির ৫টি ইউনিটের মধ্যে মাত্র ১টি ইউনিট চালু রেখে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। অথচ কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট, যা পূর্ণ সক্ষমতায় ২৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন করতে পারে। পানির অভাবে বাকি ৪টি ইউনিট বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, সব ইউনিট সচল থাকলেও হ্রদে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় সেগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে হ্রদের পানির স্তর রয়েছে ৭৭ দশমিক ৪৭ মিন সি লেভেল (এমএসএল), যেখানে এই সময়ে স্বাভাবিক পানি থাকার কথা ৮৩ দশমিক ৮০ এমএসএল। পানির স্তর ৬৮ এমএসএলে নেমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, হ্রদের পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।
এদিকে, হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি স্থানীয় জনজীবনেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। লেকনির্ভর পাঁচ উপজেলা—বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়িতে নৌযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং পলি জমে নাব্যতা সংকট তীব্র হচ্ছে।
এর ফলে লেকনির্ভর জেলে, মাঝি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ভারী বৃষ্টিপাত না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। তবে বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে হ্রদের পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক হতে পারে।