চট্টগ্রাম ব্যুরো
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দল থেকে ‘সবুজ সংকেত’ পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকাল ৪টায় নগরের গুডস হিলে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ দাবি করেন।
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, “যেহেতু চট্টগ্রামের মাটিতে নিজের বাসভবনে আপনাদের দাওয়াত দিয়ে এনেছি, তাই এই প্রশ্নের উত্তর সাদা-সরলভাবেই দিতে হয়। সাদা-সরলভাবে বলতে গেলে, আঁই চট্টগ্রামর ভাষাতই কই ফেলাই—আঁরে সবুজ সংকেত দিইয়ে।”
তিনি আরও বলেন, “একেবারে হাইয়েস্ট লেভেল থেকে আমাকে বলা হয়েছে—আপনি এগিয়ে যান। সবুজ সংকেত পেয়েছি বলেই আজ সাংবাদিকদের ডেকে মতবিনিময় করছি।”
দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমার হাই কমান্ড আমাকে অবজ্ঞা করবে না। দল থেকে মনোনয়ন না পেলে দলের মূল স্রোতধারা থেকে ছিটকে পড়তে হয়। এখানে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই।”
রাউজানে অস্ত্র ও সন্ত্রাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সবার মনে সংশয় রয়েছে—এত খুনোখুনির পর রাউজানে কি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব? আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ফ্যাসিবাদের দোসররা শুধু বিএনপির ছত্রছায়ায় নয়, প্রশাসনের ছত্রছায়াতেও রয়েছে। যদি প্রশাসনের ছত্রছায়া না পেত, তাহলে তারা এভাবে বিচরণ করতে পারত না।”
প্রশাসনের ভেতরে ফ্যাসিবাদের অনুসারী রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বলেন, “আমি শুধু সন্ত্রাসীদের দোষ দেব না। প্রশাসনের মধ্যেও ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের অনুসারীরা রয়েছে।”
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে দুই নেতার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হয়েছে। তারা হলেন—বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, দলীয় প্রার্থী হতে হলে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দলের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হয়। একই আসনে এক দলের একাধিক প্রার্থী বৈধ হলেও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগেই দলকে একজনকে চূড়ান্ত করতে হবে।