1. admin@nagoriknewsbd.com : admin :
  2. nagoriknewsctg@gmail.com : Kamrul Hossain : Kamrul Hossain
  3. hossainkamrul92@gmail.com : Kamrul Hossain : Kamrul Hossain
শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
জামায়াতনির্ভর রাজনীতিতে এলডিপি: ভোট আছে জোটে, আস্থা নেই মাঠে গুলশান থেকে চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসী’ বার্মা সাইফুল আটক মিয়ানমারের গুলিতে আহত শিশু এখনো লাইফ সাপোর্টে আনোয়ারায় অস্ত্র মামলার আলোচিত চরিত্র মরিয়ম বেগম আটক দারুল হিকমা মাদরাসা চট্টগ্রাম জিইসি শাখার উদ্বোধনী সবক ও পুরস্কার বিতরণ চট্টগ্রাম-৬ আসনে সবুজ সংকেতের দাবি, আত্মবিশ্বাসী গিয়াস উদ্দিন কাদের ৫ বছর গুম থাকলে সম্পত্তি বণ্টনের আদেশ দিতে পারবেন ট্রাইব্যুনাল সাঙ্গু রিজার্ভ ফরেস্ট উজাড়ের নেপথ্যে থানচি রেঞ্জ কর্মকর্তা ইসরাইল সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ চন্ডীগড় ইউনিভার্সিটির অর্ণব ভাটিয়ারী আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে অংশ নিয়ে জানালেন তার অভিজ্ঞতার কথা
শিরোনাম :
জামায়াতনির্ভর রাজনীতিতে এলডিপি: ভোট আছে জোটে, আস্থা নেই মাঠে গুলশান থেকে চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসী’ বার্মা সাইফুল আটক মিয়ানমারের গুলিতে আহত শিশু এখনো লাইফ সাপোর্টে আনোয়ারায় অস্ত্র মামলার আলোচিত চরিত্র মরিয়ম বেগম আটক দারুল হিকমা মাদরাসা চট্টগ্রাম জিইসি শাখার উদ্বোধনী সবক ও পুরস্কার বিতরণ চট্টগ্রাম-৬ আসনে সবুজ সংকেতের দাবি, আত্মবিশ্বাসী গিয়াস উদ্দিন কাদের ৫ বছর গুম থাকলে সম্পত্তি বণ্টনের আদেশ দিতে পারবেন ট্রাইব্যুনাল সাঙ্গু রিজার্ভ ফরেস্ট উজাড়ের নেপথ্যে থানচি রেঞ্জ কর্মকর্তা ইসরাইল সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ চন্ডীগড় ইউনিভার্সিটির অর্ণব ভাটিয়ারী আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে অংশ নিয়ে জানালেন তার অভিজ্ঞতার কথা

জামায়াতনির্ভর রাজনীতিতে এলডিপি: ভোট আছে জোটে, আস্থা নেই মাঠে

  • শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬

তাপস বড়ুয়া, চট্টগ্রাম। 

জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ নির্বাচনী ঐক্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) পেয়েছে সাতটি আসন। রাজধানীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম এই সমঝোতাকে রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও চট্টগ্রামের মাঠে এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়া ভিন্ন। দীর্ঘদিন অলি আহমদের রাজনৈতিক প্রভাবের এলাকা হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামেই এখন এলডিপির ভোটার আস্থা ও সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে গভীর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রাম–১৪ আসন, যা চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলা আংশিক অংশ নিয়ে গঠিত, একসময় অলি আহমদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সেই ঘাঁটির ভিত আগের মতো দৃঢ় নেই। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলডিপির দলীয় কার্যক্রম অনেক এলাকায় সীমিত হয়ে পড়েছে। একাধিক স্থানে দলীয় কার্যালয় কার্যত নিষ্ক্রিয়, নিয়মিত কর্মসূচি নেই এবং নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি এখন অনেকটাই জোটের বড় শরিকদের ওপর নির্ভরশীল।

একসময় অলি আহমদের ব্যক্তিগত নাম ও পরিচয়ই এই অঞ্চলে এলডিপির প্রধান রাজনৈতিক পুঁজি ছিল। মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা ও সামরিক পরিচয়ের কারণে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তিনি ভোটারদের আস্থা ধরে রাখতে পেরেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সেই রাজনৈতিক পুঁজি ক্ষয় হতে থাকে। ভোটারদের প্রত্যাশা বদলালেও অলি আহমদ নিজে কিংবা তাঁর দল এলডিপি সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। দলীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করা, মাঠে ধারাবাহিক রাজনৈতিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা কিংবা স্থানীয় সমস্যা ও জনদাবিকে কেন্দ্র করে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ফলে অলি আহমদের রাজনীতি ক্রমেই ব্যক্তি–নির্ভর ও নির্বাচনী সময়কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে, যা চট্টগ্রামের বাস্তব রাজনীতিতে এলডিপিকে পিছিয়ে দিয়েছে। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন নেতৃত্বে থেকেও নতুন নেতৃত্ব তৈরি না করা এবং জোটনির্ভর রাজনীতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অলি আহমদের রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতাকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।

এই বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের বিষয়টি, যা চট্টগ্রাম–১৪ আসনে ভোটারদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি করেছে। বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের একটি অংশ এই জোটকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন। সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া এলাকার গৃহিণী ও নিয়মিত ভোটার রোকেয়া বেগম (৪২) বলেন, “অলি আহমদকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ হিসেবে জানতাম। কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে জোট করার পর মনে হচ্ছে, তিনি আমাদের মতো নারীদের নিরাপত্তা আর স্বাধীনতার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীদের অবস্থান নিয়ে আমাদের ভয় কাজ করে।” একই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটার নিরঞ্জন দে (৫৮) বলেন, “আমি আগে অলি আহমদকে ভোট দিয়েছি তাঁর মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকার জন্য। কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাজনীতি করলে আমাদের মতো সংখ্যালঘুদের মনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। এই জোটের কারণে অনেকেই এখন এলডিপির ওপর আগের মতো আস্থা রাখতে পারছে না।”

মাঠের বাস্তবতায় এলডিপির সম্ভাব্য জয় অনেকটাই নির্ভর করছে জামায়াতে ইসলামীর সংগঠিত ভোটব্যাংকের ওপর। চট্টগ্রাম অঞ্চলে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্ভরতা এলডিপির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ যে দল নিজস্ব ভোটব্যাংক ধরে রাখতে পারে না, তারা অন্য দলের ভোটে জিতলেও রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।

চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে এলডিপির নেতৃত্ব কাঠামো নিয়েও আলোচনা রয়েছে। দলটি দীর্ঘদিন ধরেই ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতির বাইরে যেতে পারেনি। অলি আহমদ ছাড়া জাতীয় বা আঞ্চলিক পর্যায়ে এমন কোনো বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি, যাঁরা দলটিকে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে তুলে ধরতে পারেন। এ কারণে তরুণ ভোটারদের মধ্যেও এলডিপির প্রতি আগ্রহ কমছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাতকানিয়ার এক তরুণ ভোটার বলেন, জোটের ঘোষণা শোনা যায়, কিন্তু এলাকায় এলডিপির কোনো দৃশ্যমান কর্মসূচি বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা চোখে পড়ে না।

এর আগে দল থেকে একযোগে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর পদত্যাগ এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা চট্টগ্রামে এলডিপির অবস্থানকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১১–দলীয় ঐক্যে সাতটি আসনের সমঝোতা এলডিপির শক্তির প্রতিফলন নয়; বরং দলটির সীমিত জনভিত্তিরই স্বীকৃতি।

সব মিলিয়ে, কাগজে-কলমে সাতটি আসন পেলেও চট্টগ্রামের মাঠে এলডিপি এখন বড় ধরনের আস্থার সংকটে রয়েছে। চট্টগ্রাম–১৪সহ সম্ভাব্য আসনগুলোতে দলটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে মূলত জোটসঙ্গীদের ভোট ও সমর্থনের ওপর। একসময় যে এলাকা অলি আহমদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই এলাকাতেই এখন এলডিপির রাজনৈতিক অবস্থান সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

আরো খবর দেখুন...
© All rights reserved © 2024 nagoriknewsbd
Theme Customized By BreakingNews