পূর্বাভাসভিত্তিক আগাম প্রস্তুতি কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিলকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে চট্টগ্রামে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার নগরীর হোটেল পেনিনসুলায় সংগঠন ইপসার উদ্যোগে কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়। ‘অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন ফর ল্যান্ড স্লাইড কজিং ডিসপ্লেসমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় কর্মশালাটি বাস্তবায়িত হয় সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদুল ওয়াদুদ। তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম দিয়েই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিলের কার্যকর ব্যবহারের নতুন যুগ শুরু হোক। ২০১২ সালে তহবিল গঠিত হলেও এখনো স্থানীয় পর্যায়ে এর পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, দেশে প্রায় ৮০ লাখ স্বেচ্ছাসেবক দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করছেন। তাঁদের জন্য একটি জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালার আওতায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ চলছে। এর মাধ্যমে দুর্যোগকালে যেকোনো এলাকায় দ্রুত স্বেচ্ছাসেবক সক্রিয় করা সম্ভব হবে।
কর্মশালার সভাপতি ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান বলেন, “দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। উপজেলা পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় বাজেট প্রস্তাব সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে তহবিলের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে ইপসার সামাজিক উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক নাছিম বানু শ্যামলী শুভেচ্ছা বক্তব্য ও সেভ দ্য চিলড্রেনের ম্যানেজার ফাতিমা মেহেরুন্নেসা কর্মসূচির অগ্রগতি উপস্থাপন করেন ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সানজিদা ইয়াছমিন এবং অসীম চন্দ্র বনিক তহবিল সক্রিয়করণ, ব্যবহার পদ্ধতি, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তাঁদের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, তহবিল শুধুমাত্র প্রাকৃতিক নয়, মানবসৃষ্ট দুর্যোগেও ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
কর্মশালায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আশরাফুল আমিন, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়, বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারসহ সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।