রাঙ্গুনিয়ায় কাঠ পাচারের মহোৎসব-রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াদুর রহমান মাসে কোটি টাকার ঘুষ!
রাঙ্গুনিয়ায় সংরক্ষিত বনের ওপর দাপট পাচারচক্রের—নতুন রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ”
“দায়িত্ব বদলের পর রাঙ্গুনিয়ায় বেড়েছে কাঠ পাচার—অভিযুক্ত বন কর্মকর্তার নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন”
“ইটভাটার আগুনে পুড়ছে রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি বন—প্রশাসনের নজরদারিতে ফাঁকফোকর”
“দ্রুত উজাড় হচ্ছে রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি বন—জ্বালানি কাঠে ইটভাটার লাগাম নেই”
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিককে ১৬ জুলাই দুর্নীতির অভিযোগে ক্লোজ করার পর তার স্থলাভিষিক্ত হন ফরেস্ট রেঞ্জার মো. রিয়াদুর রহমান ভূঁইয়া। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পার্বত্য রাঙ্গুনিয়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ব্যাপক গাছ নিধন ও কাঠ পাচার বেড়ে গেছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা।
তাদের দাবি, রাঙ্গুনিয়া এভিয়ারি, ইকো পার্কসহ আশপাশের পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে রাতের আঁধারে কাঠ কেটে পাচার করা হচ্ছে নিয়মিত। স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং বন বিভাগেরই কিছু অসাধু কর্মচারীর সমন্বয়ে একটি পাচারচক্র সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ এসেছে।
এদিকে রাঙ্গুনিয়ায় ইটভাটার সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২টিতে গড়ে উঠেছে দুই শতাধিক ইটভাটা, যার বেশিরভাগই বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ। শুধু রাজানগর, দক্ষিণ রাজানগর ও ইসলামপুর ইউনিয়নে রয়েছে প্রায় ৮০টি ভাটা। এসব ভাটার বেশিরভাগই কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে অবৈধভাবে সংগৃহীত কাঠ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দেড় শতাধিক ভাটায় ইট পোড়ানো কার্যক্রম চলমান। প্রতিদিন এসব ভাটায় বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানো হচ্ছে, যা নাকি সরবরাহ করা হচ্ছে নিকটবর্তী বনাঞ্চল থেকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর শতাধিক কাঠবোঝাই ট্রাক বিভিন্ন ভাটায় ঢোকে এবং প্রতিটি ট্রাক থেকে ঘুষ নেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন ১৫–২০টি কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রাক কোদালা বিট এলাকা থেকে কাঠ পরিবহন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। প্রতি গাড়ি থেকে ৫০–৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। নদীপথেও কাঠ পাচারের অভিযোগ রয়েছে—পোমরা, ইসলামপুর, ইছামতি ও খুরুশিয়া রেঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রলারযোগে কাঠ পাঠানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াদুর রহমান ভূঁইয়ার মন্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি প্রশ্ন শোনার পর বলেন,আমার নিউজ করলে আমি ও কি করতে পারি দেখিয়ে দিবো আমার ও ঢাকার ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক আছে। পরে অভিযোগের বিষয় কৌশলে এড়িয়ে যান।
প্রিয় পাঠক—রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াদুর রহমান ভূঁইয়ার অনিয়ম-দুর্নীতির এক্সক্লুসিভ খবর আগামী পর্বে দেখুন…।