চট্টগ্রাম ব্যুরো |
সাংবাদিক নির্যাতন, নারী শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছনা এবং জাতীয় দলের ক্রিকেটারকে হয়রানির ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আমিরুল ইসলামকে অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স শাখায় বদলি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই রদবদল ও নতুন পদায়ন করা হয়। একই আদেশে সিএমপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার দায়িত্বেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, বিতর্কিত ডিসি আমিরুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার মো. হাসান মোস্তফা স্বপনকে। তিনি এখন থেকে উত্তর বিভাগের নতুন ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান প্রাংকে দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অভিযোগের পাহাড় ডিসি আমিরুলের বিরুদ্ধে পুলিশ সূত্র জানায়, সিএমপির উত্তর বিভাগে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ডিসি মো. আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পেশাগত অপেশাদার আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে গত বছরের ১২ অক্টোবর খুলশী থানায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে যমুনা টেলিভিশনের রিপোর্টার জোবায়ের ইবনে শাহাদাত ও তার ক্যামেরাপার্সন ডিসি আমিরুলের হাতে নির্মমভাবে মারধর ও লাঞ্ছনার শিকার হন। ওই ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ ফুসে ওঠে এবং তার প্রত্যাহারের দাবিতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ হয়।
বিতর্কের এখানেই শেষ নয়; গত ১৮ মে নগরীতে দেয়ালচিত্র বা গ্রাফিতি আঁকতে যাওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নারী কর্মীকে লাঞ্ছিত ও গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। যার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে তার পদত্যাগ দাবি করা হয়। সবশেষ গত ১২ জুন জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাঈম হাসানকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মারধর ও থানায় নিয়ে হয়রানির ঘটনায় ডিসি আমিরুলের অধীনস্থদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ব্যর্থতার বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ নেয়। এই ঘটনার পর পরই খুলশী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হলেও মূল অভিযুক্ত ডিসি আমিরুল বহাল তবিয়তে থাকায় ক্ষোভ বাড়ছিল। অবশেষে গতকালকের আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হলো।
শীর্ষ পর্যায়ে আরও রদবদল এদিকে পৃথক এক আদেশে সিএমপির দুই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরীকে পূর্ণ মেয়াদে প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তার জায়গায় ট্রাফিক বিভাগের নতুন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়াকে, যিনি এতদিন উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
সিএমপির এই বড় ধরনের রদবদলকে পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা ও ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।