নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
‘নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ৪১ দফা সংবলিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ইশতেহারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বা ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যুবকদের অগ্রাধিকার, প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গঠন এবং ফ্যাসিবাদের চিরস্থায়ী বিলোপসহ ২৬টি বিশেষ বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
১. জুলাই সনদ ও ফ্যাসিবাদ নির্মূল: জামায়াত তাদের ইশতেহারে স্পষ্ট করেছে যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ‘জুলাই সনদ’ আইনি ভিত্তি পাবে। রাষ্ট্রযন্ত্রের সব স্তর থেকে ফ্যাসিবাদের দোসরদের অপসারণ এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো একনায়কতন্ত্র ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
২. তারুণ্যের বাংলাদেশ ও কর্মসংস্থান: রাষ্ট্র পরিচালনায় যুবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলায় ‘যুব টেক ল্যাব’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫ লাখ যুবককে মাসিক ১০ হাজার টাকা হারে ‘বেকার ভাতা’ (কর্দ-এ-হাসানা) প্রদান এবং আগামী ৫ বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩. নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন: নারীদের জন্য নিরাপদ সমাজ ও কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করার বিষয়টি ইশতেহারে বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। পরিবহন ও জনসমাগমস্থলে নারীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও বড় নারী কলেজগুলোকে একীভূত করে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ‘নারী বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।
৪. প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট’ সমাজ: ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখ আইসিটি কর্মসংস্থান এবং ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সহজ পেমেন্ট গেটওয়ে এবং দেশের সকল নাগরিকের জন্য ‘স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড’ প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
৫. মানবিক ও বৈষম্যহীন সেবা: স্বাস্থ্যখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বের নাগরিক এবং ৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও উচ্চশিক্ষার প্রসারে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শিক্ষা ঋণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।