নাগরিক নিউজ:
মিষ্টির শিরায় পড়েছিল ছোট-বড় তেলাপোকা, পাখনা ও ডিম। বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করছিল অসংখ্য তেলাপোকা। শুধু তেলাপোকা নয়, হরেকরকমের ছোট ছোট পোকা পড়েছিল খাবারে। নেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বালাই। তৈরি করা খাবার খোলা অবস্থায় ফেলা রাখা হয়েছে ফ্লোরে। বিস্কুটের প্যাকেটের ওজনেও মিলেছে গড়মিল। মিষ্টি ও বেকারি খাদ্য তৈরিতে জনপ্রিয় হাইওয়ে সুইটসে এমন দৃশ্য দেখে হতবাক খোদ ভোক্তার কর্মকর্তরা। এসব অপরাধে ওই প্রতিষ্ঠানকে গুণতে হয়েছে দেড় লাখ টাকা জরিমানা।
তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগেও একই প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন অপরাধে জরিমানা করা হয়েছিল। অথচ চট্টগ্রাম মহানগরীতে বেশ সুনাম রয়েছে হাইওয়ে সুইটসের। নামকরা এ প্রতিষ্ঠানে খাদ্যদ্রব্য কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে সাধারণ ক্রেতারা। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এ প্রতিষ্ঠানের শোরুম রয়েছে। ক্রেতাদের পছন্দ ও আস্থার জায়গার সেই প্রতিষ্ঠানেই এবার ধরা পড়েছে নানা অনিয়ম ও খাবার তৈরির ‘ভয়ঙ্কর’ চিত্র।
রবিবার, ৯ নভেম্বর সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর লালখান বাজার এলাকার হাইওয়ে সুইটসে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান ও সহকারী পরিচালক মাহমুদা আক্তার ও ক্যামেরাম্যান মো. আফতাবুজ্জামান।
এর আগে গত ৯ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুড গাইড চিটাগং নামের একটি গ্রুপে কোহিনূর আক্তার নামে একজন লিখেন ‘চট্টগ্রামের লালখান বাজার ইসপাহানির মোড় এর হাইওয়ে সুইটস থেকে ১ কেজি সন্দেশ কিনে বাসায় এনে খাওয়ার সময় সন্দেশ এর ভেতর তেলাপোকার অংশ পাওয়া যায়। এতবড় নামকরা প্রতিষ্ঠানের খাবারের এই অবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। নারী ভোক্তার এমন অভিযোগের বাস্তব চিত্রই যেন ফুটে উঠেছে ভোক্তার অধিদপ্তরের অভিযানে।
এদিকে একই অভিযানে পণ্যের মোড়ক বিধি লঙ্ঘন করায় মুুক্তি ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য বিক্রির দায়ে ওরেগানো মোনাফা ভান্ডারী প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণের অপরাধে নিউ প্রিন্স হোটেলকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, হাইওয়ে সুইটস প্রতিষ্ঠানে আমরা বেশকিছু অনিয়ম দেখতে পেয়েছি। মিষ্টির শিরাতে তেলাপোকা এবং হরেকরকমের ছোট ছোট পোকা পড়ে থাকতে দেখেছি। এছাড়া তেলাপোকার ডিম ও পাখনাও পেয়েছি। প্রচুর পরিমাণ জীবিত তেলাপোকা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে দেখেছি।’
তিনি বলেন, ‘বিস্কুটের প্যাকেটে ১০-১২ গ্রাম ওজনে কম পেয়েছি। খাবার প্রসেস করে রাখা হচ্ছে ফ্লোরে। এটা আসলে হওয়ার কথা না। যেখানে কর্মীদের পা যাচ্ছে সেখানে না রেখে বরং তারা ট্রের ওপর রাখতে পারত। বেশকিছু অপরিচ্ছন্নতাও রয়েছে। এসব অপরাধে এ প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন অপরাধে তিন প্রতিষ্ঠানকে ২৪ হাজার টাকাসহ মোট ১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম চলবে বলে জানান তিনি।’