নিজস্ব প্রতিবেদক :
এ ইউ মাসুদ, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম
বিদ্যুৎ বিভাগের চালু করা নতুন প্রি-পেইড মিটার সংযোগ নিয়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার হাজারো গ্রাহক চরম বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বেশিরভাগ গ্রাহককে এই মিটার ব্যবহার করতে গিয়ে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রয়োজন মুহূর্তে করা যাচ্ছে না মিটার রিচার্জ।
অপরদিকে রিচার্জ করতেই কেটে নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এছাড়া টাকা লোড করার সময়বহু ডিজিট চেপে রিচার্জ করতে গিয়ে ভুল হচ্ছে। তাতে অনেক সময় মিটার লক হয়ে যাচ্ছে। এতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এ অবস্থায় অযথা হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা প্রিপেইড মিটারের পরিবর্তে গ্রাহকরা আগের ডিজিটাল মিটার লাগানোর দাবি তুলেছেন।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, সাতকানিয়া পৌরসভা এবং উপজেলার বেশকটি এলাকায় মোট বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে ১৫ হাজার। ইতিমধ্যে ১০ হাজারের বেশি গ্রাহকের উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রিপেইড মিটার। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন অনেকটা গ্রাহকদের উপর চাপ সৃষ্টি করে প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রিপেইড মিটার সংযোগ না নিলে আগের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে বলে চাপ দেয়া হচ্ছিল। বিদ্যুৎ অফিস কৌশলে ধীরে ধীরে গ্রাহতকে নতুন সংযোগ নিতে চালু থাকা মিটারের কোনো না কোন সমস্যা সৃষ্টি করে দিচ্ছে। এ অবস্থায় গ্রাহকরা প্রিপেইড মিটার লাগাতে বাধ্য হচ্ছেন। এভাবে বাসা বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও স্থাপন করা হচ্ছে এই মিটার। এতে করে নতুন মিটার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকরা।
সুত্র জানায়, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে একটি কোম্পানির বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে বিদ্যুৎ বিভাগ ডিজিটাল মিটার স্থাপনের পরিবর্তে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীরা হেনেস্তার শিকার হতে হচ্ছে। তবুও তারা বিভিন্নভাবে প্রি- পেইড মিটার স্থাপন চালিয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, প্রিপেইড মিটার স্থাপনের সময় আমাদের পুরানো মিটার বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন নিয়ে যায়। কিন্তু সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী শুধুমাত্র মিটার বদল ফ্রি নেয়ার নিয়ম থাকলেও বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন নতুন প্রিপেইড মিটার বাইর থেকে কিনতে হচ্ছে অজুহাত দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে মিটারের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ বিষয়টি আমরা জানিনা।
কিন্তু আমাদেরকে অন্ধকারে রেখে তাঁরা মিটারের টাকা হাতিয়ে নিলেও পরে দেখা যাচ্ছে টাকা লোড করার পর সেখান থেকে মিটার ভাড়া টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। এখন প্রিপেইড মিটার লাগানোর পরবর্তী আমাদের ভোগান্তির মাত্রা বেড়ে চলছে।
গ্রাহকরা দাবি করেন, মিটারে যথাসময়ে টাকা রিচার্জ করতে না পারা, আবার টাকা লোড করার পর অতিরিক্ত চার্জ, মিটারের ভাড়া এবং অন্যান্য চার্জের নামে একটি বিশাল অঙ্কের টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। আবার টাকা লোড করতে গিয়ে মিটারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। অনেক সময় মিটার লক হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় লক খুলতে বিদ্যুৎ অফিসে গেলে বা লাইসম্যানের দ্বারস্থ হতে গিয়ে সেখানে টাকার মাশুল গুনতে হচ্ছে। এরপরও গ্রাহকরা মিটারের বিলিং প্রক্রিয়া এবং রিচার্জ করার পদ্ধতি নিয়েও চরম বেকায়দায় পড়ছেন।
এছাড়া আগের কাগজের বিলের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে প্রিপেইড মিটারে। আবার টাকা শেষ হয়ে গেলে জরুরি ব্যালান্স নিতে গিয়ে দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত চার্জ। মিটারে টাকা লোড করতে গিয়ে পোহাতে হচ্ছে নানামুখী ঝামেলা। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলছেন,
বিদ্যুৎ বিভাগের টাকা হরিলুটের এই পদ্ধতি এখন নিরবিচ্ছিন্ন সেবার বিপরীতে আমাদের কাছে বিষফোড়া হয়েছে।
এ অবস্থায় বেশিরভাগ গ্রাহক প্রিপেইড মিটার বন্ধ করে পোস্টপেইড ও ডিজিটাল মিটার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, প্রি-পেইড মিটার লাগাইতে গিয়ে লাগানো চার্জ বলে ৩০০/৫০০ এমনকি ২০০০ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া লোড বৃদ্ধি করতে নেওয়া হচ্ছে ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা। অপরদিকে পুরানো মিটার গুলোতে চলতি মাসের বিল হাতে না আসায় রিডিং জমা আছে বলে রিডিং এর টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। মিটার থেকে অতিরিক্ত বিল ইসূ্ করা ইউনিট ফেরত না দিয়ে প্রি-পেইড মিটার লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এব্যাপারে সাতকানিয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী শোভন ভৌমিক বলেন, “ইতোমধ্যে সাতকানিয়ার ১৫ হাজার গ্রাহককে প্রিপেইড মিটার সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। মিটা্র প্রতিস্থাপন করছে একটি প্রকল্পের অধীনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, মিটরের ব্যাপারে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই।”
এই প্রতিবেদক তার সাথে মুঠোফোনে কল করে মিটার প্রতিস্থাপন করা বাধ্যতামুলক কী না এরকম কোন নির্দেশনা আছে কী না জিগ্যেস করাতে তিনি ব্যস্ত আছেন, পরে কথা বলবেন বলে কল কেটে দেন।