নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের পাঁচটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। যাচাই শেষে এসব আসনে মোট ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং ৩৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন প্রশাসন।
যাচাই-বাছাই হওয়া আসনগুলো হলো—চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড), চট্টগ্রাম–৫ (হাটহাজারী), চট্টগ্রাম–৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) ও চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া)।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) সীতাকুণ্ড ও হাটহাজারী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জিয়াউদ্দীন। অপরদিকে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও পটিয়া আসনের মনোনয়ন যাচাই করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, বিভিন্ন অনিয়ম ও কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দলীয় মনোনয়নের স্বাক্ষরের অমিল, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকায় স্বাক্ষরের গরমিল, আয়কর সংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতি, ঋণখেলাপি সংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় ফরম ও অঙ্গীকারনামা জমা না দেওয়া।
সীতাকুণ্ড আসনে মোট ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুর রশীদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। যাচাইয়ে দেখা যায়, ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকা থেকে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে যাচাই করা স্বাক্ষরের সত্যতা পাওয়া যায়নি। বাকি ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
হাটহাজারী আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়ন বাতিল হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম ফজলুল হক, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদ। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের ক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়নের স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে সংরক্ষিত স্বাক্ষরের মিল পাওয়া যায়নি। অন্যদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকা যাচাইয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
রাউজান আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া আরও তিনজন প্রার্থীর মনোনয়নও বৈধ বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী জানান, দল যাকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করবে, সেটিই দলীয়ভাবে মেনে নেওয়া হবে। গোলাম আকবর খোন্দকারও বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তই তিনি অনুসরণ করবেন।
রাঙ্গুনিয়া আসনে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল এবং ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে মনোনয়ন বাতিলের কারণ হিসেবে সমর্থনকারীর স্বাক্ষর না থাকা, আয়কর সংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতি, প্রয়োজনীয় ফরম ও অঙ্গীকারনামা দাখিল না করার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
পটিয়া আসনে মোট ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং এলডিপির প্রার্থী এম ইয়াকুব আলী। নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, এম ইয়াকুব আলীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়নের সত্যতা নিশ্চিত না হওয়ায় তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নও ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকার তথ্য যাচাইয়ে সত্যতা না পাওয়ায় বাতিল করা হয়েছে।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর। যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয় ৩০ ডিসেম্বর এবং শেষ হয় ৪ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। এরপর ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়ে চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
তাপস/নাগরিক