চট্টগ্রাম ব্যুরো :
শীতের ভোরে ভাটিয়ারীর পাহাড়ি দৃশ্যাবলী আলোয় ভরে উঠছিল, আর সেই মুহূর্তে পুরো এলাকা মুখরিত হয়েছিল দৌড়ের উত্তেজনায়। সেই পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ভাটিয়ারী ইন্টারন্যাশনাল ম্যারাথন ২০২৬, যা আয়োজিত হয়েছিল বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) এবং রান বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায়। এই আন্তর্জাতিক মানের AIMS-সার্টিফাইড ইভেন্টে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবং বিদেশ থেকেও বহু দৌড়প্রেমী অংশগ্রহণ করেন।
ম্যারাথনে অংশ নিয়ে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন চন্ডিগড় ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অর্ণব। বিশ্ববিদ্যালয় ছুটিতে দেশে ফিরে এমন একটি আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে অংশ নেওয়া তার জন্য ছিল এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। দেশের বাইরে থাকার কারণে অনেক সময় দেশীয় দৌড় বা ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নেওয়া সম্ভব হয় না, তবে ভাটিয়ারীর পাহাড়ি রাস্তা, কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ এবং চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে দৌড়ানো তাকে নতুন উদ্দীপনা দিয়েছে।
অর্ণব জানান, ম্যারাথনের দিন ভোর ৩:৩০ মিনিটে বাসা থেকে রওনা দিতে হয়েছিল। আয়োজকদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে স্টার্টিং পয়েন্টে পৌঁছে যান, যা পুরো ইভেন্টের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। ম্যারাথনে ২১.১ কিলোমিটার হাফ ম্যারাথন, ১০ কিলোমিটার এবং ৫ কিলোমিটার—এই তিনটি ক্যাটাগরিতে দৌড় অনুষ্ঠিত হয়।
অর্ণব বলেন, “পাহাড়ি রাস্তা এবং কুয়াশা ভরা পরিবেশ এক নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা দিয়েছে। প্রতিটি দৌড়ের মুহূর্তে চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য আমাকে আরও উদ্দীপনা যোগ করেছে। ভাটিয়ারীর প্রতিটি বাঁক এবং কুয়াশার হালকা আবহ দৌড়কে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।”শীতের হালকা কুয়াশা, পাহাড়ি পথের ওঠানামা এবং দর্শকদের উৎসাহ দৌড়বিদদের জন্য অতিরিক্ত প্রেরণা ছিল। তিনি আরও যোগ করেন, “এই ম্যারাথন শুধু শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নয়, এটি মানসিক দৃঢ়তা এবং আত্মবিশ্বাসেরও পরীক্ষা। দেশে এমন আন্তর্জাতিক মানের ইভেন্টে অংশ নেওয়া সত্যিই এক অনন্য অভিজ্ঞতা।”
এই ধরনের আন্তর্জাতিক মানের ম্যারাথন দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতিকে আরও প্রসারিত করে, তরুণদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ায় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করবে বলেও জানিয়েছে চন্ডীগড় ইউনিভার্সিটির এই শিক্ষার্থী।
আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এই ম্যাথনের সুষ্ঠু আয়োজন, নিরাপত্তা এবং অংশগ্রহণকারীদের পূর্ণ সহযোগিতা প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজন করা সম্ভব এবং ভবিষ্যতেও দেশের ক্রীড়া ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।