চট্টগ্রাম ব্যুরো
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল) থেকে প্রায় ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. হাসানুল ইসলামের আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে পলাতক ৩৪ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান অভিযোগপত্রটি আদালতে দাখিল করেন।
মামলায় জাবেদের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী রুকমিলা জামান, ছোট ভাই আসিফুজ্জামান, বোন রোকসানা জামান এবং ইউসিবিএল ব্যাংক ও আরামিট গ্রুপের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দুদকের আইনজীবী রেজাউল করিম রনি জানান, সাবেক মন্ত্রী জাবেদের বিরুদ্ধে এটিই দুদকের দেওয়া প্রথম অভিযোগপত্র।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যবসায়ী হিসেবে দেখিয়ে ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ইউসিবিএল ব্যাংকের চট্টগ্রাম পোর্ট শাখায় ওই প্রতিষ্ঠানের নামে একটি চলতি হিসাব খোলা হয়।
পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি গম, হলুদ, ছোলা ও মটর আমদানির কথা উল্লেখ করে ১৮০ দিনের জন্য টাইম লোনের আবেদন করা হয়। ঋণ প্রস্তাবে নেতিবাচক মতামত থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ অনুমোদন করে।
ঋণের অর্থ চারটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান আলফা ট্রেডার্স, ক্লাসিক ট্রেডার্স, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের হিসাবে পে-অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। পরে এসব অর্থ নগদ উত্তোলন ও বিভিন্ন হিসাবে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, আত্মসাৎ করা অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সেখানে সম্পত্তি কেনা হয়। পাশাপাশি জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেডের হিসাবে অর্থ জমা দিয়ে দায় সমন্বয় করা হয়। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।