নিজস্ব প্রতিবেদক | লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল্যবান কাঠ উজাড় করে পাচার করা হচ্ছে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে। অভিযোগ উঠেছে, বন রক্ষার দায়িত্বে থাকা চুনতি রেঞ্জ অফিসার আবির হোসেন এবং সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. দেলোয়ার হোসেনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগসাজশে প্রতিদিন ট্রাক ভরে বনের কাঠ যাচ্ছে ভাটায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতের আঁধারে তো বটেই, দিনের আলোতেও সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। এসব কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে আশেপাশের অবৈধ ও বৈধ ইটভাটাগুলোতে। বন আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত বনের কাঠ পোড়ানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হলেও, প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে এই বৃক্ষ নিধন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, রেঞ্জ অফিসার আবির হোসেন ও সহকারী বন সংরক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনের সাথে কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেট এবং ইটভাটা মালিকদের দহরম-মহরম সম্পর্ক রয়েছে। বড় অংকের মাসোহারা বা আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে তারা এই ধ্বংসলীলায় চোখ বন্ধ করে আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে বন রক্ষীদের টহল শিথিল করে দিয়ে পাচারকারীদের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত চুনতি আজ হুমকির মুখে। বনের গাছ কমে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে এবং প্রায়ই হাতিসহ অন্যান্য প্রাণী লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এভাবে কাঠ উজাড় হতে থাকলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করলে এই কাঠ পাচার ও দুর্নীতির আসল চিত্র বেরিয়ে আসবে।
পরিবেশ সচেতন মহল জরুরি ভিত্তিতে বন মন্ত্রণালয় ও উচ্চপদস্থ বন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, যাতে চুনতির এই সবুজ সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়।