চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনে গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ রুমী তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাথাল মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী এই প্রার্থী ইশতেহারের মূল অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনের ভৌগোলিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্য খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তিত নয় দফা অঙ্গীকার এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইশতেহারে নগরবাসীর ওপর আরোপিত অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক হোল্ডিং ট্যাক্স আইন বাতিলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে করব্যবস্থাকে নাগরিকবান্ধব ও স্বচ্ছ করা এবং কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।
স্বাস্থ্য খাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিসর ও সক্ষমতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন প্রার্থী। পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রূপান্তর, প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে কমিউনিটি হাসপাতাল স্থাপন এবং প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ‘হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
নারী, শিশু ও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ সেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন এলাকায় প্রবীণ নাগরিক ক্লাব ও চাইল্ড কেয়ার সেন্টার স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া নারী, শিশু, প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নাগরিকদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ পাবলিক টয়লেট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে পাহাড় ও খাল দখলমুক্ত করে প্রাণ ও প্রকৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়। বিশেষজ্ঞ নগর পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে আধুনিক ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা নিরসন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়।
যানজট নিরসনে সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনার কথা জানান রুমী। একই সঙ্গে হাঁটা ও বাইসাইকেলবান্ধব সড়ক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরা হয়।
নাগরিক সেবা ও বাণিজ্য খাতে লালফিতার দৌরাত্ম্য দূর করে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের জন্য এক টেবিলে সরকারি সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় স্থানান্তরের দাবিও জানান তিনি।
ইশতেহারে তরুণ বেকারদের জন্য আইটি ও বিভিন্ন খাতভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু, কর্মবাজার উপযোগী দক্ষতা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার কথা বলা হয়। ক্রীড়াবান্ধব নগরী গড়ে তুলতে আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রতিটি এলাকায় আধুনিক ইনডোর ও আউটডোর খেলার মাঠ নির্মাণের অঙ্গীকার করা হয়।
শিক্ষা খাতে ন্যূনতম দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত, কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে গণসংহতি আন্দোলনের স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রেস রিলিজ পাঠ করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য শহিদ শিমুল।