1. admin@nagoriknewsbd.com : admin :
  2. nagoriknewsctg@gmail.com : Kamrul Hossain : Kamrul Hossain
  3. hossainkamrul92@gmail.com : Kamrul Hossain : Kamrul Hossain
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
ফুটবল অঙ্গনে নতুন দিগন্ত: বর্ণিল আয়োজনে কিষোয়ান ফুটবল একাডেমির আত্মপ্রকাশ টিকাদান কার্যক্রমকে শতভাগ সফল করতে হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত বিএডিসির ৬০২ কোটির সেচ প্রকল্প: কাজ না করেই বিল হরিলুট, পালালেন পিডি চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশি অপারেটর দিয়ে পরিচালনার রেয়াতি চুক্তির খসড়া অনুমোদন মেঘনা পেট্রোলিয়ামে এজিএম রাশেদুলের ‘আলাদিনের চেরাগ’: ভুয়া সনদে চাকরি থেকে শুরু করে শত কোটি টাকার তেল চুরি ও দুর্নীতি! চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে ২০ দিনের কারাদণ্ড ঘুষের টাকাসহ সাব-রেজিস্ট্রার ও দুই সহযোগী আটক বাসের ভাড়া বাড়লো এখনো বহাল চট্টগ্রাম বন্দরের আলোচিত চেয়ারম্যান—খুঁটির জোর কোথায়? চকরিয়ায় বাদীসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা, প্রত্যাহারের দাবি

জুলুসে জনসমুদ্র চট্টগ্রাম

রিপোটারের নাম
  • বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রাম আবারও পরিণত হলো লাখো আশেকে রাসুলের মিলনমেলায়। ঐতিহ্যবাহী ৫৫তম জশনে জুলুসে অংশ নিতে ভোর থেকেই নগরীর বিভিন্ন প্রবেশপথে মানুষের ঢল নামে। শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকেও হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ বাস, ট্রাক, পিকআপ ও মোটরসাইকেলে করে নগরীতে আসেন। ফলে পুরো নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় এক অনন্য ধর্মীয় আবহ।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল পৌনে ১০টার দিকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠ থেকে জশনে জুলুস শুরু হয়। বিশাল এই শোভাযাত্রা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাইগারপাস পর্যন্ত পৌঁছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জুলুস টাইগারপাস এলাকায় পৌঁছালে আকাশ মেঘে ঢেকে যায় এবং শুরু হয় হালকা বৃষ্টি। কিন্তু বৃষ্টি কোনোভাবেই ধর্মপ্রাণ মানুষের উৎসাহে ভাটা ফেলতে পারেনি। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই লাখো মানুষ পীর সাহেবের গাড়ি অনুসরণ করে পুরো শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পরে একই পথে ফিরে জুলুসের সমাপ্তি ঘটে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে।

এবারের জুলুসে নেতৃত্ব দেন পাকিস্তানের দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) এবং শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ (ম.জি.আ.)। তাঁদের উপস্থিতিতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

জুলুসের পুরো পথজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অংশগ্রহণকারী ও পথচারীদের জন্য পানি, শরবত, খেজুর, কলা, বিরিয়ানি এবং অন্যান্য খাবারের ব্যবস্থা করে। অনেক ব্যক্তি উদ্যোগেও বিশ্রাম ও আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়, যা উৎসবমুখর পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

এত বড় আয়োজনকে সুশৃঙ্খল রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জুলুস চলাকালে লালখান বাজার-মুরাদপুর ফ্লাইওভার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিপুল মানুষের সমাগমের কারণে নগরীর বিভিন্ন স্থানে যানজট সৃষ্টি হলেও স্বেচ্ছাসেবক ও প্রশাসনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।

আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের উদ্যোগে ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে চট্টগ্রামে এই ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আয়োজন দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় শোভাযাত্রায় পরিণত হয়েছে, যেখানে লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ চট্টগ্রামের ধর্মীয় ঐতিহ্যকে নতুন মাত্রা দেয়।

জুলুস উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশ করা কোরআন ও হাদিসসম্মত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর নেয়ামত লাভে আনন্দ প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বিশ্বজগতের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত হচ্ছেন প্রিয় নবী (সা.)। তাই ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন মুসলমানদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। তিনি আরও বলেন, জশনে জুলুস এমন একটি কর্মসূচি যেখানে শরীয়তবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড হয় না; বরং কোরআন তিলাওয়াত, নাতে রাসুল (সা.) পরিবেশন এবং মহানবীর জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জুলুসে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এডিশনাল সেক্রেটারি আলহাজ শামসুদ্দিন, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দীন, ক্যাবিনেট মেম্বার পেয়ার মোহাম্মদ, মাহমুদ নেওয়াজ, মহিউদ্দিন খোকনসহ গাউসিয়া কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিবছরের মতো এবারও জশনে জুলুস শুধু একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রা নয়, বরং চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও মহানবী (সা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা-ভক্তির এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ হিসেবে লাখো মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

আরো খবর দেখুন...
© All rights reserved © 2024 nagoriknewsbd
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: WhatHappen
jp-5d10b93919362ae286b3