মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ; সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বাকলিয়া থানায় মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম নগরীর পূর্ব বাকলিয়ার ওয়াইজের পাড়া এলাকায় মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ওপর হামলা এবং এক নেতার বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এলাকায় আরও সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে পূর্ব বাকলিয়ার ওয়াইজের পাড়া ইউনিটে মহানগর বিএনপি নেতা অধ্যাপক নূরুল আলম রাজু, শাহজাহান সিরাজ, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো. সেলিমসহ স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি এলাকার মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এ সময় এলাকার কিছু চিহ্নিত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ও মাদকসেবী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হলে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেওয়া হয়। পরে এসআই দেলোয়ারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সেখান থেকে সরে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর অভিযুক্তরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. সেলিমের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় দা, কিরিচ, লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিষয়ে পুনরায় পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করা হলে পুলিশের আরেকটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে। যাওয়ার সময় মো. সেলিম, শাহজাহান সিরাজসহ কয়েকজনকে নাম ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আগেও মামলা
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি মামলা বাকলিয়া থানায় দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। তাঁদের মতে, আগের অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে যথাযথ তদন্তের পাশাপাশি নতুন করে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ
ঘটনার পর থেকে ওয়াইজের পাড়া এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, হামলা ও পাল্টা সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকসেবন, মাদক কারবার এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা দাবি
অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগীদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে হামলার বিবরণ, বাড়ির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, হুমকির প্রকৃতি এবং থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাবে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা বলে তাঁদের প্রকৃত বক্তব্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা যেতে পারে।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সম্প্রতি দায়ের করা মামলার অগ্রগতি, নতুন হামলার অভিযোগ, অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে হবে।