ধারাবাহিক ১ম পর্ব
নাগরিক নিউজ ডেস্কঃ
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নাজির পদে টানা ছয় বছর দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে। দুর্নীতির অভিযোগে বদলি হওয়ার মাত্র চার মাসের মাথায় তাকে আবার চট্টগ্রামে ফিরিয়ে আনা হয়েছে—যা নিয়ে প্রশাসনিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ১৪তম গ্রেডের এই কর্মচারীর মাসিক বেতন প্রায় ৩০ হাজার টাকা হলেও নগরের কোর্ট রোড এলাকায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ডাবল ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর একাধিক অনুসন্ধানে তার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য উঠে এসেছে। যদিও আয়কর নথিতে সীমিত সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, বাস্তবে সম্পদের পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি চাকরিবিধি উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি জেলা প্রশাসনে ‘অলিখিত ডিসি’ হিসেবে প্রভাব বিস্তার করেছেন। ভূমি অধিগ্রহণ, নিয়োগ-বদলি, ইজারা-লিজসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে ঘুষ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে তিনজন কর্মচারীকে বদলি করা হয়। এর মধ্যে জামাল উদ্দিনকে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। একই আদেশে আরও দুই কর্মচারীকেও পৃথক জেলায় বদলি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে তিনি নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় দলীয় নেতাকর্মীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি আটজন আইনজীবী দুর্নীতি দমন কমিশন চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, তার ব্যাংক হিসাব জব্দ, বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সহকর্মীদের অভিযোগ, কর্মকর্তা না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে তিনি কর্মকর্তা সুলভ আচরণ করে প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে দিয়েছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। নতুন প্রেক্ষাপটে তার পুনর্বহাল প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।