চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের(চসিক) আগ্রাবাদ জোনে চলছে সান্ধ্যকালীন হাম ও রুবেলার টিকার কর্মসূচি। নগরীর প্রতিটি শিশুর জন্য হাম ও রুবেলার টিকা নিশ্চিতকরনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে।
মঙ্গলবার ২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদ ওর্য়াডের খেলার মাঠ এলাকায় কর্মসূচিটি পালন করা হয়। চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.ইমাম হোসেন রানা ও চসিক স্বাস্থ্য বিভাগের ১নং জোনের জোনাল মেডিকেল অফিসার ডা.জুয়েল মহাজনের তত্ত্বাবধানে কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইউনিসেফের সহযোগিতায় জোনের ঝূঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। চসিকের আগ্রাবাদ জোনের তত্ত্বাবধানে থাকা ২৩,২৩,২৭,২৮ ও ৩৬ নম্বর ওর্য়াডে পর্যায়ক্রমে এই টিকা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
আগ্রাবাদ জোনের জোনাল মেডিকেল অফিসার ডা.জুয়েল মহাজন জানান, ৬ মাস থেকে পাঁচ বছরের প্রতিটি শিশুকে হাম ও রুবেলার টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা গ্রহীতার উঠানে পৌঁছে যাচ্ছে আমাদের দক্ষ স্বাস্থ্য কর্মীরা। যারা চাকরির জন্য দিনের বেলায় শিশুকে টিকা কেন্দ্রে আনতে পারেন না, তাদের কথা চিন্তা করে সন্ধ্যায় আমরা টিকা কার্যক্রম শুরু করি।
২০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া হাম ও রুবেলার টিকা কর্মসূচি চলবে ২০ মার্চ পর্যন্ত। চট্টগ্রাম শহরে বসবাসরত মোট ৩লাখ ৩০০ শিশুকে এই টিকা বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। ৪১টি ওর্য়াডের ৭ জোনের মাধ্যমে টিকা কর্মসূচি চালাবে চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ। এজন্য ইতিমধ্যে ৪৮টি স্থায়ী টিম, ২০৫টি অস্থায়ী টিম, ৪১টি মপ-আপ টিম এবং ১৪টি সন্ধ্যাকালীন টিকাদান গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে।
টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতকরণ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় সভা, মাইকিং ও গণসচেতনতা কার্যক্রম চালু করেছে চসিক।
ইপিআই কর্মীরা জানান, টিকা গ্রহণের জন্য অভিভাবকদের ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে নিবন্ধন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে নিবন্ধন না থাকলেও কোনো শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হবে না। বিশেষ করে বস্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা প্রদানের বিশেষ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।