বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) তাদের দুটি জাহাজ ক্রয় সংক্রান্ত একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংস্থাটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যকে “ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ” বলে দাবি করেছে।
মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে বিএসসি জানায়, উক্ত প্রতিবেদনে জাহাজ ক্রয়ের প্রক্রিয়া, ব্যয় নির্ধারণ এবং প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজ দুটি ক্রয়ের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় টেকনিক্যাল কমিটি, টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসহ একাধিক ধাপ অতিক্রম করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করা হয়।
বিএসসি আরও জানায়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান ও মূল্যায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান দ্বারা প্রয়োজনীয় যাচাইকরণ সম্পন্ন হয়েছে।
ব্যয়ের বিষয়ে সংস্থাটি উল্লেখ করে, আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিটি জাহাজ প্রায় ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে ক্রয় করা হয়েছে, যা প্রাথমিক অনুমানিক মূল্যের তুলনায় কম। এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অতিরিক্ত ব্যয়ের দাবি “অবাস্তব ও বিভ্রান্তিকর” বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক তুলে ধরে বিএসসি জানায়, জাহাজ দুটি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন, জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব। এগুলো আন্তর্জাতিক নির্গমন মানদণ্ড পূরণে সক্ষম।
সংস্থাটি আরও জানায়, জাহাজ দুটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক রুটে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশে পোর্ট স্টেট কন্ট্রোল ও ক্লাস ইন্সপেকশনে সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করেছে।
বিবৃতির শেষাংশে বিএসসি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, “ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য জনমনে আস্থা নষ্ট করে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।”