নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার রৌফাবাদে উর্দুভাষী (বিহারী) জনগোষ্ঠীর বসতভিটার জমি কেনাবেচা ও ত্রাণ-পুনর্বাসনের সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। আইনি জটিলতা উপেক্ষা করে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কেনাবেচা, শরিকদের স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে সুবিশাল ভাড়ার কলোনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে লক্ষ্মীপুরের শাহাদাৎ হোসেন বাহার ও মোহাম্মদ সামশুদ্দোহা নামের দুই ব্যক্তি ইশতেয়াখ আহম্মেদ রাজার কাছ থেকে প্রায় ৪৭ লাখ টাকায় পাঁচ কাঠা জমি (হোল্ডিং ৬৯, ৭০ ও ৭১) কেনেন। অভিযোগ রয়েছে, মো. রাজু, শাকিলা বেগম ও রাজিয়া সুলতানাসহ মোট সাতজন শরিকের স্বাক্ষর জাল করে এবং মূল শরিকদের তথ্য গোপন রেখে এই হস্তান্তর সম্পন্ন করা হয়।
কেনা জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে ‘বাহার মিয়া কলোনী’। প্রায় ২০টি ভাড়াঘর থেকে মাসে অন্তত ৮০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। তবে চমকপ্রদ তথ্য হলো, ২০০৯ সাল থেকে সরকার আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখলেও ২০১১ সালে কেনা এই জমিতে রহস্যজনকভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়।
শুধু ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি নয়, সরকারি জমিও সমানতালে দখল হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
১১ দাগের প্রায় চার গণ্ডা জায়গায় রুবেল নামের এক ব্যক্তি বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।
১ নম্বর খতিয়ানের ২৪ শতাংশ জায়গা দখল করে সোলায়মান, ফারুক ও রনি দোকান নির্মাণ করছেন।
উর্দুভাষীদের এডহক কমিটির চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন লিটন জানান, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের প্রায় ৮ একর ৪১ শতাংশ বেদখল জমি উদ্ধারে প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা মেলেনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ক্রেতা শাহাদাৎ হোসেন বাহার ও বিক্রেতা ইশতেয়াখ আহম্মেদ রাজার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ক্ষুব্ধ হন এবং ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
কর্ণফুলী গ্যাস কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা প্রকৌশলী রফিক খান বলেন, “অনুমোদনহীন সংযোগ সম্পূর্ণ অবৈধ। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, এ সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে কমিটি রয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, রৌফাবাদের বিতর্কিত জমিগুলোর মালিকানা ও দলিলাদি দ্রুত ফরেনসিক পরীক্ষার আওতায় এনে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা জরুরি।