চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ৫নং সারোয়াতলী ইউনিয়নের সারোয়াতলী গ্রামে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জাতীয় বীর বিপ্লবী মহানায়ক মাস্টারদা সূর্য সেন ও বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার-এর ৯৩তম ফাঁসি দিবস।
বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারের গ্রামের বাড়ি সারোয়াতলীতে বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার বিকেল ৪টায় এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সিঞ্চন ভৌমিকের সভাপতিত্বে এবং সদস্য এিদীপ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি সদস্য বাসুদেব চৌধুরী, নারী নেত্রী নেলী চৌধুরী, সন্ধ্যা চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহ আলম, মোহাম্মদ দিদার, মোহাম্মদ রহিম, অগ্রদূত চৌধুরী, তপন ঘোষ, অপু শীল, জুয়েল চৌধুরী, রনি শীল, নয়ন শীল, দীপেন চৌধুরী, সুজয় শীল, অভি শীল ও স্বপন চৌধুরী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার সারোয়াতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করায় সংগ্রামী মানুষের কাছে সারোয়াতলী গ্রামটি আজ সংগ্রামী মানুষের কাছে তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। মেধাবী তারকেশ্বর দস্তিদার পূর্ণ চন্দ্র সেন সারোয়াতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় অল্প বয়সেই মা-বাবার স্বপ্নকে তুচ্ছ করে দেশকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে মাস্টারদা সূর্য সেনের দলে যোগ দেন। তাঁর পথ অনুসরণ করে সারোয়াতলী গ্রামের প্রায় এিশ জন কৃতী সন্তান ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ১৫ জুন ১৯৩৩ সালে ব্রিটিশ সরকারের সাজানো তথাকথিত তৃতীয় অস্ত্রাগার লুণ্ঠন মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২১ ও ১২১-এ ধারায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সূর্য সেনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। একই ধারায় তাঁর বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা তারকেশ্বর দস্তিদারেরও মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। বিপ্লবী কল্পনা দত্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনে একই সূত্রে গাঁথা। বিপ্লবীদের পথ অনুসরণ করেই এ দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ব্রিটিশবিরোধী ২০০ বছরের সংগ্রামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয় না, যা জাতির জন্য বেদনাদায়ক।
বক্তারা বলেন, একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তার আত্মপরিচয়ের মূল ভিত্তি। সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে গেলে জাতি শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং স্বাতন্ত্র্য হারায়। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও নানা কারণে আমাদের বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে—এ জন্য আমাদের দেশের হীনস্বার্থান্বেষী রাজনীতির প্রভাবকে দায়ী করেন বক্তারা।
পরিশেষে বক্তারা সরকারের কাছে জোর দাবি জানান, বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারের জন্মভিটা ও সংশ্লিষ্ট জমিজমাকে ঐতিহাসিক নিদর্শন ( Heritage ) হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে একটি বিপ্লবীদের স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হোক, যাতে আগামী প্রজন্ম স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস জানতে ও অনুপ্রাণিত হতে পারে।