সরকারি ১১৯ কোটি টাকা চুরির অন্যতম নায়ক এশিয়াটিক ওয়েলের ব্যবস্থাপক বেলায়েত এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন দূর্নীতি, হয়নি শাস্তি (পর্ব-১)
সরকারি কোষাগারের বিপুল অর্থ লোপাট করে এখনও চেয়ার আঁকড়ে ধরে আছেন তিনি। তিনি আর কেউ নন, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (এসএওসিএল) ব্যবস্থাপক (হিসাব ও নিরীক্ষা) বেলায়েত হোসেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসার পরও এই ‘দুর্নীতির রাজা’র বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এসএওসিএল-এর কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মূল চাবিকাঠি ছিল বেলায়েত হোসেনের হাতে। মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন পরিচালক মঈন উদ্দিন আহমেদের মালিকানাধীন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড’ (এওসিএল)-এর কাছে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের পাওনা ছিল ১১৯ কোটি ২৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৪৯ টাকা।
হিসাব ও নিরীক্ষা বিভাগের শীর্ষ দায়িত্বে থাকা বেলায়েত হোসেন বাকি আসামিদের সাথে যোগসাজশ করে এই বিপুল অর্থ ব্যাংকে জমা না করেই হিসাবের খাতায় ‘জমা’ দেখিয়ে দেন। ব্যাংকে চেক জমা না দিয়েই অবাস্তবভাবে টাকা আদায় দেখানো হয়, আবার পরবর্তীতে চতুরতার সাথে সেই চেক ‘প্রত্যাখ্যাত’ (চেক ডিজনার) দেখিয়ে অর্থ অনাদায়ি রেখে দেওয়া হয়।
দুদকের অভিযোগ: আসামি বেলায়েত হোসেন প্রতারণামূলকভাবে প্রতিষ্ঠানের ভুয়া বিল ও ভাউচার প্রস্তুত করে তাতে স্বাক্ষর করেছেন। কোম্পানির প্রকৃত আয় গোপন রেখে সরকারি টাকা অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে সরাসরি মানিলন্ডারিং বা অর্থ পাচারের সাথে জড়িত তিনি।
এসব গুরুতর অভিযোগ, দুদকের মামলা এবং কর্মক্ষেত্রে চলমান অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ব্যবস্থাপক (হিসাব ও নিরীক্ষা) বেলায়েত হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে বিস্তারিত উল্লেখ করে খুদে বার্তা (SMS) পাঠানো হলেও তার কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে তার এই অনীহা বা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা দুর্নীতির গুঞ্জনকে আরও জোরালো করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এত বড় জালিয়াতি এবং দুদকের সরাসরি মামলার পরও বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি প্রশাসন। উল্টো তিনি এখনও বহাল তবিয়তে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ এভাবে বহাল থাকায় ধুঁকছে রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটি, আর ভেতরে ভেতরে ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের প্রশ্ন— “কার খুঁটির জোরে ১১৯ কোটি টাকা চুরির অন্যতম নায়ক এখনও একই চেয়ারে বসে দুর্নীতি করার সুযোগ পাচ্ছেন?”
আগামী পর্বে আমরা তুলে ধরবো এই সিন্ডিকেটের ভেতরের আরও চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। ২য় পর্বে যা যা থাকছে:
খুঁটির জোর কোথায়? দুদকের মামলার পরও কার ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যাচ্ছেন বেলায়েত হোসেন?
ভেতরের গোপন নথি: ভুয়া বিল ও ভাউচার জালিয়াতির সেই অকাট্য প্রমাণাদি।
ক্ষুব্ধ কর্মচারীদের জবানবন্দী: বঞ্চনা ও আতঙ্কে থাকা এসএওসিএল-এর সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভেতরের বিস্ফোরক বক্তব্য।
কোম্পানির বর্তমান দশা: বেলায়েতের চলমান দুর্নীতির কারণে কীভাবে প্রতিদিন লোকসানের মুখে পড়ছে স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড।