1. admin@nagoriknewsbd.com : admin :
  2. nagoriknewsctg@gmail.com : Kamrul Hossain : Kamrul Hossain
  3. hossainkamrul92@gmail.com : Kamrul Hossain : Kamrul Hossain
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
টিকাদান কার্যক্রমকে শতভাগ সফল করতে হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত বিএডিসির ৬০২ কোটির সেচ প্রকল্প: কাজ না করেই বিল হরিলুট, পালালেন পিডি চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশি অপারেটর দিয়ে পরিচালনার রেয়াতি চুক্তির খসড়া অনুমোদন মেঘনা পেট্রোলিয়ামে এজিএম রাশেদুলের ‘আলাদিনের চেরাগ’: ভুয়া সনদে চাকরি থেকে শুরু করে শত কোটি টাকার তেল চুরি ও দুর্নীতি! চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে ২০ দিনের কারাদণ্ড ঘুষের টাকাসহ সাব-রেজিস্ট্রার ও দুই সহযোগী আটক বাসের ভাড়া বাড়লো এখনো বহাল চট্টগ্রাম বন্দরের আলোচিত চেয়ারম্যান—খুঁটির জোর কোথায়? চকরিয়ায় বাদীসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা, প্রত্যাহারের দাবি এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে রাউজানে অবৈধ সার ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান

১২ বছরেই শতকোটির মালিক; চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্মকর্তা আলতাফের ‘আলাদিনের চেরাগ’

রিপোটারের নাম
  • শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম

​কাস্টমসের চাকরি মানেই যেন রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ। লোকমুখে প্রচলিত এই প্রবাদটিকেই এবার বাস্তবে রূপ দিয়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন। কাস্টমস ও ভ্যাটের ১৪তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা মাত্র এক যুগের (১২ বছর) চাকরি জীবনেই বনে গেছেন শতকোটি টাকার মালিক। গ্রামে রাজপ্রাসাদ, রাজধানীতে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট, চড়েন দামি ব্র্যান্ডের গাড়িতে। নিজের পাশাপাশি স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনদের নামেও গড়েছেন সম্পদের পাহাড়।
​আমাদের দীর্ঘ অনুসন্ধানে এই কর্মকর্তার নামে-বেনামে থাকা বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৪ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন আলতাফ হোসেন। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এনবিআরের এক সাবেক ক্ষমতাধর শীর্ষ কর্মকর্তার সুপারিশে চাকরি পাওয়া আলতাফ, ওই কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়েই কাস্টমসে অদম্য শক্তিশালী হয়ে ওঠেন।

​অভিযোগ রয়েছে, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলামের মেয়াদে সবচেয়ে বেশি বেপরোয়া ছিলেন আলতাফ। তখনকার মহাপরিচালকের ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত এই ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তা ক্যাডার অফিসারদেরও তোয়াক্কা করতেন না। ক্ষমতার দাপট আর ঘুষের টাকায় তার পা মাটিতে পড়ত না।

​নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তরে একটি পদে সর্বোচ্চ ৬ মাসের বেশি পদায়নের সুযোগ না থাকলেও, আলতাফের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম খাটেনি। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটে টানা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা, যার সবকিছুই তৎকালীন শুল্ক গোয়েন্দা প্রধানের নখদর্পণে ছিল বলে জানা যায়।

​ঢাকার ফ্ল্যাট থেকে গ্রামের ‘রাজপ্রাসাদ’!

​১০ম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার সরকারি স্কেল অনুযায়ী মাসিক সর্বসাকুল্যে বেতন মাত্র ৩৮,৬৪০ টাকা। বিগত ১১-১২ বছরে তার মোট বৈধ বেতন হওয়ার কথা সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। যেখানে ঢাকা শহরে এই বেতনে সাধারণ জীবনযাপন করাই কষ্টকর, সেখানে আলতাফ হোসেনের রয়েছে একাধিক আলিশান ফ্ল্যাট।

​অনুসন্ধানে প্রাপ্ত আলতাফের স্থাবর সম্পদের তথ্য বলছে,​ ৩০০/১, পূর্ব রসুলপুর ঠিকানায় রয়েছে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। নির্মাণাধীন একটি ১১ তলা ভবনের ৯ম তলায় রয়েছে আরেকটি বড় ফ্ল্যাট। নিজ গ্রাম বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জের ফুলহাতায় গড়ে তুলেছেন বিশাল অট্টালিকা। এলাকায় তিনি এখন ‘টাকার কুমির’ নামে পরিচিত। স্ত্রী ও নিকট আত্মীয়দের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে জমি, প্লট এবং ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট (FDR)।

​কিশোরগঞ্জ, খুলনা ও শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তর ঘুরে আলতাফের সর্বশেষ পদায়ন হয় দেশের প্রধান রাজস্ব প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে। সেখানে যাওয়ার পর তার দুর্নীতির মাত্রা আরও তীব্র হয়। সিএন্ডএফ এজেন্ট ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ—চট্টগ্রাম কাস্টমসে আলতাফের টেবিলে ‘লাখ টাকা’ ছাড়া কোনো ফাইল ছাড় হয় না। নিয়মতান্ত্রিক অনুরোধ করলেও ফাইল আটকে রেখে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা তার নিত্যদিনের বিষয়।

​সম্প্রতি তার এই লাগামহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের বর্তমান কমিশনার তাকে তাৎক্ষণিক বদলি করেন। তবে বদলি ঠেকাতে বর্তমানে এনবিআরের উচ্চমহলে জোর তদবির ও লাখ লাখ টাকা ছড়াচ্ছেন বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।

​বিএনপি সরকারকে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্র!

​কেবল আর্থিক দুর্নীতিই নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনেও রয়েছে এই কর্মকর্তার গোপন মিশন। সম্প্রতি এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের নেপথ্যে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেছে আলতাফ সিন্ডিকেট। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিপদে ফেলতে এবং এনবিআরের কার্যক্রম স্থবির করতে এই সিন্ডিকেট প্রায় ‘কোটি টাকা’ বিনিয়োগ করেছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে থেকে আলতাফ হোসেনের নেতৃত্ব দেওয়ার বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজও এখন গণমাধ্যমের হাতে।

​একজন সামান্য সরকারি কর্মকর্তার এত বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

আরো খবর দেখুন...
© All rights reserved © 2024 nagoriknewsbd
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: WhatHappen
jp-5d10b93919362ae286b3