1. admin@nagoriknewsbd.com : admin :
  2. nagoriknewsctg@gmail.com : Kamrul Hossain : Kamrul Hossain
  3. hossainkamrul92@gmail.com : Kamrul Hossain : Kamrul Hossain
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
গুলশান থেকে চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসী’ বার্মা সাইফুল আটক মিয়ানমারের গুলিতে আহত শিশু এখনো লাইফ সাপোর্টে আনোয়ারায় অস্ত্র মামলার আলোচিত চরিত্র মরিয়ম বেগম আটক দারুল হিকমা মাদরাসা চট্টগ্রাম জিইসি শাখার উদ্বোধনী সবক ও পুরস্কার বিতরণ চট্টগ্রাম-৬ আসনে সবুজ সংকেতের দাবি, আত্মবিশ্বাসী গিয়াস উদ্দিন কাদের ৫ বছর গুম থাকলে সম্পত্তি বণ্টনের আদেশ দিতে পারবেন ট্রাইব্যুনাল সাঙ্গু রিজার্ভ ফরেস্ট উজাড়ের নেপথ্যে থানচি রেঞ্জ কর্মকর্তা ইসরাইল সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ চন্ডীগড় ইউনিভার্সিটির অর্ণব ভাটিয়ারী আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে অংশ নিয়ে জানালেন তার অভিজ্ঞতার কথা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে ছাড় দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
শিরোনাম :
গুলশান থেকে চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসী’ বার্মা সাইফুল আটক মিয়ানমারের গুলিতে আহত শিশু এখনো লাইফ সাপোর্টে আনোয়ারায় অস্ত্র মামলার আলোচিত চরিত্র মরিয়ম বেগম আটক দারুল হিকমা মাদরাসা চট্টগ্রাম জিইসি শাখার উদ্বোধনী সবক ও পুরস্কার বিতরণ চট্টগ্রাম-৬ আসনে সবুজ সংকেতের দাবি, আত্মবিশ্বাসী গিয়াস উদ্দিন কাদের ৫ বছর গুম থাকলে সম্পত্তি বণ্টনের আদেশ দিতে পারবেন ট্রাইব্যুনাল সাঙ্গু রিজার্ভ ফরেস্ট উজাড়ের নেপথ্যে থানচি রেঞ্জ কর্মকর্তা ইসরাইল সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ চন্ডীগড় ইউনিভার্সিটির অর্ণব ভাটিয়ারী আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে অংশ নিয়ে জানালেন তার অভিজ্ঞতার কথা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে ছাড় দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

টানা ১৬ বছর চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ পাচার: এনায়েত উল্লাহসহ পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা করল সিআইডি

  • বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এনা ট্রান্সপোর্টের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে পরিবহন সেক্টরে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে অর্জিত অর্থ পাচারের অভিযোগে ১০৭ কোটি টাকার মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে সংগঠিত চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার প্রমাণ পাওয়ার পর রমনা থানায় গতকাল মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) এ মামলা দায়ের করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানান

অনুসন্ধান সূত্র জানায়, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান খন্দকার এনায়েত উল্লাহ আশির দশকের পরে পরিবহন সেক্টরে যাত্রা শুরু করেন। পার্টনারশিপে একটি পুরাতন বাস কেনার মাধ্যমে তার ব্যবসার সূচনা হলেও কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি প্রায় ২০টি বাসের মালিক হয়ে ওঠেন। অল্প সময়েই তিনি পরিবহন মালিকদের সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। এরপর তার আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব বাড়িয়ে নেন। প্রথমে বিএনপির রাজনীতি, পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদও লাভ করেন।

এই রাজনৈতিক পরিচয় খন্দকার এনায়েত উল্লাহকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছিল। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট হাসিনার সরকারের পতন পর্যন্ত টানা ১৬ বছর তিনি ধারাবাহিকভাবে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি সংগঠনের সব গুরুত্বপূর্ণ পদ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং পরিবহন সেক্টরে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। বিভিন্ন সময়ে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা আন্দোলন কর্মসূচি ব্যর্থ করতে পরিবহন সচল রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি সংবাদ শিরোনামে থাকলেও নিজের কোম্পানির বাসগুলো রাস্তায় নামাতেন না, যা তার কৌশলের অংশ ছিল।

তারা চাঁদাবাজির কার্যক্রমগুলো ছিল অত্যন্ত সংগঠিত ও ভয়ভীতি-ভিত্তিক। এনায়েত উল্লাহ ও তার সহযোগীরা সিন্ডিকেট গড়ে বিভিন্ন অজুহাতে বাস মালিকদের কাছ থেকে প্রকাশ্য চাঁদা আদায় করতেন।  দৈনিক চাঁদার পাশাপাশি মাসিক চাঁদাও নেওয়া হতো এবং নতুন বাস কোনো রুটে নামাতে হলে দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হতো। নতুন বাস কেনার সময় মালিকদের সেই বাসের একটি ভাগও এনায়েতকে দিতে বাধ্য করা হতো, না হলে বাসটি সড়কে চলতে পারত না। এর ফলে অনেক কোম্পানি বিক্রির সময় মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে চাঁদা পরিশোধ করত।

ঢাকার প্রতিটি বাস টার্মিনাল ছিল এনায়েত উল্লাহর নিয়ন্ত্রণে। শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশের বাস, মিনিবাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতিগুলো থেকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হতো। সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী ব্যবহার করে তিনি পরিবহন সেক্টরে ত্রাসের রাজত্ব চালাতেন।

বিএফআইইউ , বিভিন্ন ব্যাংক, ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্র অফিস, বাংলাদেশ মালিক পরিবহন সমিতি এবং মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদসহ অন্যান্য বিভিন্ন উৎস হতে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্রের ওপর ভিত্তি করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে।  অনুসন্ধানকালে ধানমন্ডির দুটি ফ্ল্যাট এবং রূপগঞ্জের দুটি প্লট ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল মহানগর জজ আদালতের আদেশে ক্রোক করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। একই আদালতের আদেশে তাদের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়, যার মোট স্থিতি প্রায় ১১০ কোটি টাকা। উভয় আদেশই গত ৩ জুলাই কার্যকর করা হয়।

সিআইডির বিশ্লেষণে দেখা যায়, খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও তার পরিবারের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ১৯৯টি ব্যাংক হিসাবে মোট জমা হয়েছে প্রায় দুই হাজার ১৩১ কোটি টাকা, আর উত্তোলন হয়েছে প্রায় দুই হাজার ৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে, এনা ট্রান্সপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেডের ৪৩টি হিসাবে জমা ৯৩৪.০৪ কোটি টাকা, উত্তোলন ৯০৬.৯৬ কোটি টাকা, এনা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের আটটি হিসাবে জমা ৪১০.৩৮ কোটি টাকা, উত্তোলন ৪০৮.২৫ কোটি টাকা ও খন্দকার এনায়েত উল্লাহর ব্যক্তিগত ৭৪টি হিসাবে জমা ৪৫৯.০৮ কোটি টাকা, উত্তোলন ৪০২.৭৩ কোটি টাকার তথ্য জানা যায়। সিআইডির বিস্তারিত অনুসন্ধান ফলাফলে দেখা যায়, ‘স্ট্রাকচারিং’ বা ‘স্মার্ট লেয়ারিং’ কৌশল ব্যবহার করে চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল অবৈধ অর্থ নানা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘুরিয়ে–ফিরিয়ে মোট ১০৭ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৭৪ টাকা মানিলন্ডারিং করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া প্রাথমিক সত্যতা বিবেচনায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খন্দকার এনায়েত উল্লাহসহ পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে রমনা থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর ৪(২) ধারায় মামলা করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

সিআইডি বলছে, রাষ্ট্রের অর্থপাচারে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে আইনের আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ সংরক্ষণে সিআইডির এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

আরো খবর দেখুন...
© All rights reserved © 2024 nagoriknewsbd
Theme Customized By BreakingNews