1. admin@nagoriknewsbd.com : admin :
  2. nagoriknewsctg@gmail.com : Kamrul Hossain : Kamrul Hossain
  3. hossainkamrul92@gmail.com : Kamrul Hossain : Kamrul Hossain
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
ফুটবল অঙ্গনে নতুন দিগন্ত: বর্ণিল আয়োজনে কিষোয়ান ফুটবল একাডেমির আত্মপ্রকাশ টিকাদান কার্যক্রমকে শতভাগ সফল করতে হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত বিএডিসির ৬০২ কোটির সেচ প্রকল্প: কাজ না করেই বিল হরিলুট, পালালেন পিডি চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশি অপারেটর দিয়ে পরিচালনার রেয়াতি চুক্তির খসড়া অনুমোদন মেঘনা পেট্রোলিয়ামে এজিএম রাশেদুলের ‘আলাদিনের চেরাগ’: ভুয়া সনদে চাকরি থেকে শুরু করে শত কোটি টাকার তেল চুরি ও দুর্নীতি! চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে ২০ দিনের কারাদণ্ড ঘুষের টাকাসহ সাব-রেজিস্ট্রার ও দুই সহযোগী আটক বাসের ভাড়া বাড়লো এখনো বহাল চট্টগ্রাম বন্দরের আলোচিত চেয়ারম্যান—খুঁটির জোর কোথায়? চকরিয়ায় বাদীসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা, প্রত্যাহারের দাবি

বনের প্রহরী যখন ভক্ষক: ডেপুটি রেঞ্জার শামীমের দাপটে দিশেহারা বন বিভাগ ও ব্যবসায়ীরা

রিপোটারের নাম
  • সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ধুমঘাট ফরেস্ট চেক স্টেশনে ডেপুটি রেঞ্জার মো. শামীম রেজার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না বনজ সম্পদ, না কি কাঠ ব্যবসায়ী। বনজ সম্পদ পরিবহন তদারকি ও অবৈধ কাঠ পাচার ঠেকানোর দায়িত্ব কাঁধে থাকলেও, তাঁর এই স্টেশনটি এখন বন বিভাগের ডাকাত ‘টোল প্লাজা’য় পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বৈধ ও অবৈধ সব ধরণের কাঠবাহী গাড়ি থেকেই মোটা অঙ্কের ঘুষ আদায় করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলেও, ঘুষ না দিলে ব্যবসায়ীদের হয়রানি, মামলা কিংবা গাড়ি আটকে রাখা হয়।

সীমাহীন দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ: তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ডেপুটি রেঞ্জার শামীমের বিরুদ্ধে চেক স্টেশনে চাঁদাবাজি, বনের গাছ ও জায়গা বিক্রি, এবং উন্নয়ন কাজের সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ আরও রয়েছে, সরকারি চাকরি বিধিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি অবাধে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে চলছেন। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও তোয়াক্কা করেন না তিনি। চট্টগ্রাম উপকূল বন বিভাগের কুতুবদিয়া রেঞ্জে দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি ৩২ লাখ টাকার বেশি উন্নয়নমূলক কাজের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অথচ বন বিভাগের কর্তারা শুধুমাত্র চিঠি চালাচালিতেই সীমাবদ্ধ। এমনকি গত বছর তিনি ফরেস্টার থেকে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতিও পেয়েছেন!

ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি ও অভিযোগ: ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, লামা, আলীকদম ও কক্সবাজার থেকে আসা গোল কাঠ, জ্বালানি কাঠ, রদ্দা কাঠ ও আসবাবপত্রবাহী গাড়িগুলোকে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি ও মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়। ফলে এক ধরনের অঘোষিত সিন্ডিকেট তৈরি করে ডাকাতি কারবার চলছে।

স্থানীয়দের পাওনা টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ: কুতুবদিয়া উপজেলার স্কেভেটর ও ডাম্পার ট্রাক ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান, শামীম রেজার কাছে তিনি ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা পান। গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। একই উপজেলার শাহ জব্বারিয়া স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. ইছাহাক জানান, তিন বছরের বেশি সময় ধরে তাঁর কাছে পাওনা টাকা চাচ্ছেন। ঠিকাদার হেফাজ উদ্দিনও তাঁর কাছে টাকা পান।

ডেপুটি রেঞ্জার শামীমের বক্তব্য: এই ব্যাপারে ডেপুটি রেঞ্জার মো. শামীম রেজার বক্তব্য নেওয়ার জন্য অনেকবার ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপে কল এবং টেক্সট দিলেও তিনি কোনো রিপ্লাই দেননি।

বন বিভাগের বক্তব্য: চট্টগ্রাম উপকূল বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শেখ আবুল কালাম আজাদ বলেন, কুতুবদিয়া রেঞ্জে বরাদ্দের টাকা সঠিকভাবে খরচ হয়েছে কি না, তিনি তদন্ত করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। এটি একটি অনিয়ম। এখনো কোনো কাজ অবশিষ্ট আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

পরবর্তী পদক্ষেপ: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে ডেপুটি রেঞ্জার মো. শামীম রেজার বহুমুখী দুর্নীতি তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী আরিফ খান। তিনি বলেন, সংবাদপত্রে বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও, দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা তা আমলে নিচ্ছেন না। ডেপুটি রেঞ্জার শামীম রেজা একা দুর্নীতি করছেন তা নয়। তাঁকে আশ্রয় প্রদানকারী কর্মকর্তাদেরও শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

আরো খবর দেখুন...
© All rights reserved © 2024 nagoriknewsbd
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: WhatHappen
jp-5d10b93919362ae286b3