একসময় বালুমহালকেন্দ্রিক ছোটখাটো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। কিন্তু খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে হয়ে ওঠেন চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম আলোচিত নাম। হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া, গুলিবর্ষণ ও ব্যবসায়ীদের হুমকি—একের পর এক ঘটনায় উঠে আসে মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের নাম। অবশেষে যশোর থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর তার উত্থান ও অপরাধ কর্মকাণ্ডের নানা তথ্য প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগীদের মাধ্যমে অপরাধ জগতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। অস্ত্র ব্যবহারে দক্ষতা, দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ড এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ পরিচালনার সক্ষমতার কারণে তিনি খুব দ্রুতই চক্রটির আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।
পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালে নগরীর কয়েকটি বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডে তার নাম উঠে আসে। এর মধ্যে বাকলিয়ার জোড়া খুন, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা এবং সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যা উল্লেখযোগ্য। এসব ঘটনায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ অন্তত দেড় ডজন মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ছিল তার চক্রের অন্যতম কৌশল। বাকলিয়ার একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, হাটহাজারীতে এক ব্যবসায়ীর কাছে বিপুল অঙ্কের চাঁদা আদায় এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশের ভাষ্য, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে একটি সশস্ত্র চক্র পরিচালনা করছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, নগর পুলিশ ও র্যাবের একাধিক দল কাজ করে। পরে যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
জেলা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি তার সহযোগী, অস্ত্রের উৎস, অর্থের জোগান এবং অপরাধচক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।