চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ বাড়ার পাশাপাশি সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও কমেছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। তবে গ্যাস সংকটের অজুহাতে গণপরিবহনে যে বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু হয়েছিল, তা এখনও কমেনি। ফলে গ্যাসের সংকট কিছুটা কাটলেও যাত্রীদের ভোগান্তি রয়ে গেছে ভাড়ার ক্ষেত্রে।
নগরীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন দেখা গেছে, আগের কয়েক দিনের তুলনায় যানবাহনের চাপ অনেক কম। কোথাও অল্প কয়েকটি গাড়ি লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেক স্টেশনে গাড়িকে অপেক্ষা করতে হয়নি। চালকেরা প্রায় স্বাভাবিক সময়েই গ্যাস নিতে পারছেন।
নগরীর মুরাদপুর-খাগড়াছড়ি সড়কের সংগীত মোড়ের এমআইবি সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনে ৮ থেকে ১০টি গাড়ি লাইনে দেখা গেলেও আগের সপ্তাহের মতো দীর্ঘ সারি ছিল না। স্টেশনের দায়িত্বে থাকা মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, বুধবার রাত থেকেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গাড়ি আসার সঙ্গে সঙ্গেই গ্যাস দেওয়া হয়েছে। অনেক সময় কোনো গাড়িকেই লাইনে অপেক্ষা করতে হয়নি।
নগরীর খুলশী এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. হাসান চৌধুরীও জানান, তাদের স্টেশনে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে এবং গাড়ির চাপও কমেছে। যদিও সরবরাহ এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক ভালো।
গ্যাস সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি এলেও গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে গ্যাস সংকটের কথা বলে নির্ধারিত ভাড়ার প্রায় দ্বিগুণ আদায় করছেন চালক ও হেলপাররা। এতে যাত্রীদের সঙ্গে তাদের নিয়মিত বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।
যাত্রীরা জানান, নগরের ৩ নম্বর রুটের মিনি বাসে নির্ধারিত ভাড়া ৫ টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা। একই রুটের টেম্পুতেও ৫ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা নুরুল আমিন বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুরাদপুর থেকে আতুরার ডিপো পর্যন্ত টেম্পুতে যাতায়াতে তার কাছ থেকে ১০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়েছে। অথচ নির্ধারিত ভাড়া ৫ টাকা। তার ভাষ্য, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পরও দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হলে এর দায় কে নেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো তদারকি দেখা যাচ্ছে না। ফলে চালকেরা নিজেদের মতো করে ভাড়া আদায় করছেন।
গ্যাস সংকটের কারণে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম সিএনজি অটোরিকশা-অটোটেম্পো মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক টিটু চৌধুরী। তিনি বলেন, নগরে অর্ধশতাধিক সিএনজি ফিলিং স্টেশন থাকলেও সবগুলোতে এখনও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে না। কোথাও কয়েক ঘণ্টা করে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। ফলে গত কয়েক দিন ধরে চালকদের গ্যাস সংগ্রহে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
টিটু চৌধুরীর দাবি, অনেক চালককে স্টেশনের সামনে রাত কাটাতে হয়েছে। গ্যাসের অভাবে অনেক গাড়ি রাস্তায় নামানোও সম্ভব হয়নি। যেসব গাড়ি চলাচল করেছে, সেগুলোতে ৫ টাকার ভাড়া ১০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে অতিরিক্ত ভাড়া আর নেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সালাহউদ্দিন জানান, মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সমস্যার কারণে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ কমে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের কক্সবাজার কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইমতিয়াজ কামাল চৌধুরী জানান, বুধবার রাত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনালে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। একটি বয়লার থেকে প্রায় ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং অপরটি থেকে প্রাথমিকভাবে আরও প্রায় ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ত্রুটি মেরামতের পর দ্বিতীয় বয়লার থেকেও সরবরাহ বাড়ানো হবে।
গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে চট্টগ্রামের বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে।