বিশেষ প্রতিনিধি | চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগে ঘুষ, জালিয়াতি এবং রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন গণপূর্তের প্রকৌশলী মেহেদী এবং দুর্নীতি ও জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই)। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন, ভুয়া নথিপত্র তৈরি এবং বিগত সরকারের আমলে সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার এক পরিকল্পিত চক্রান্তের চিত্র।
অভিযোগের বিবরণ: গণপূর্তের অভ্যন্তরীণ সূত্র ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিতর্কিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনডিই-র জালিয়াতি ঢাকতে এবং তাদের নতুন কাজ পাইয়ে দিতে টেবিলের নিচ দিয়ে ৫০ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের রূপবদল: অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলী মেহেদী চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং গোপালগঞ্জের বাসিন্দা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে বিএনপির সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে কোটি টাকার বিনিময়ে চট্টগ্রাম গণপূর্তে পদায়ন বাগিয়ে নিয়েছেন।
এনডিই-র বিতর্কিত রেকর্ড: এনডিই-র বিরুদ্ধে ভুয়া নথি জমা, নিম্নমানের নির্মাণকাজ, এবং পাথর ও রেডি-মিক্স আমদানির নামে হুন্ডির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী ক্যাডারদের অবৈধ অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহের গুরুতর অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে উঠেছে।
প্রশাসনিক তোলপাড়: সাম্প্রতিক এই জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসার পর চট্টগ্রাম গণপূর্ত এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্তের দাবি: সুশীল সমাজ ও সচেতন মহল থেকে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং কালো তালিকাভুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে।
| সংস্থা / বিভাগ | সম্ভাব্য ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ |
| দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) | ৫০ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং হুন্ডি পাচারের আর্থিক অপরাধ তদন্ত করা। |
| গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় | ভুয়া নথিপত্র জমা ও রাজনৈতিক পরিচয় জালিয়াতির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। |
| আইন প্রয়োগকারী সংস্থা | আন্দোলন দমনে অবৈধ অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ খতিয়ে দেখা। |
সরকারি দপ্তরগুলোর ভেতর থেকে এ ধরনের দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট নির্মূল না হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রম প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ফেরাতে এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।