বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাউতলা এলাকার হোটেল রেনেসাঁর বারে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) অহিদুর রহমান।
নিহত রাশেদুল হক রাশেদ কক্সবাজার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নুনিয়ারছরা এলাকার মৃত জয়নাল কোম্পানির ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। বড় ভাইয়ের সঙ্গে বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করতেন রাশেদ।
পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে রাশেদসহ ৭-৮ জন তরুণ হোটেল রেনেসাঁর বারে যান। তাদের মধ্যে রাশেদ ও সাইফুল নুনিয়ারছরা এলাকার বাসিন্দা। অন্যরা বিজিবি ক্যাম্প, পাহাড়তলী ও টেকপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
বারে তারা একসঙ্গে মদপান করছিলেন। একপর্যায়ে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। উত্তেজনার মধ্যে মদের বোতল ও কাঁচের গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। পরে একপর্যায়ে রাশেদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
ঘটনার আকস্মিকতায় বারের ভেতর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় রাশেদের সঙ্গে থাকা সাইফুল ফোন করে স্থানীয়দের বিষয়টি জানান। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হলে হোটেলের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর গেট খুলে দেওয়া হলে সবাই বেরিয়ে আসেন। এ সময় আহত রাশেদও বাইরে বের হয়ে মাটিতে ঢলে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে রাশেদকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে স্থানীয়রা হামলাকারী সন্দেহে একজনকে আটক করে মারধরের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আটক সালমানকে স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে।
তবে নিহতের পরিবারের দাবি, ব্যবসায়িক লেনদেনের বিষয় নিয়ে কয়েকজন পাওনাদারের সঙ্গে রাশেদ হোটেল রেনেসাঁয় বসেছিলেন। টাকা-পয়সার বিষয়ে কথা বলার সময় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়ে থাকতে পারে। তবে কোন পর্যায়ে বিরোধটি হত্যাকাণ্ডে গড়াল, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। কার কাছে কত টাকা পাওনা ছিল, সে বিষয়েও পরিবার বিস্তারিত জানাতে পারেনি।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। সন্দেহজনক একজনকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে হেফাজতে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।






