1. admin@nagoriknewsbd.com : admin :
  2. nagoriknewsctg@gmail.com : Kamrul Hossain : Kamrul Hossain
  3. hossainkamrul92@gmail.com : Kamrul Hossain : Kamrul Hossain
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
টিকাদান কার্যক্রমকে শতভাগ সফল করতে হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত বিএডিসির ৬০২ কোটির সেচ প্রকল্প: কাজ না করেই বিল হরিলুট, পালালেন পিডি চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশি অপারেটর দিয়ে পরিচালনার রেয়াতি চুক্তির খসড়া অনুমোদন মেঘনা পেট্রোলিয়ামে এজিএম রাশেদুলের ‘আলাদিনের চেরাগ’: ভুয়া সনদে চাকরি থেকে শুরু করে শত কোটি টাকার তেল চুরি ও দুর্নীতি! চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালির অভিযোগে ২০ দিনের কারাদণ্ড ঘুষের টাকাসহ সাব-রেজিস্ট্রার ও দুই সহযোগী আটক বাসের ভাড়া বাড়লো এখনো বহাল চট্টগ্রাম বন্দরের আলোচিত চেয়ারম্যান—খুঁটির জোর কোথায়? চকরিয়ায় বাদীসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা, প্রত্যাহারের দাবি এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে রাউজানে অবৈধ সার ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান

অর্থঋণ আদালতের নিলামে ২১ শতক জমি কিনে বিপাকে গৃহিণী

রিপোটারের নাম
  • রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

দখল বুঝে পাওয়ার পর ‘হুমকি-চাঁদাবাজির’ অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের দাবি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
অর্থঋণ আদালতের আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যাংকের নিলামে নগরীর বাদুরতলা হারেজ শাহ আবাসিক এলাকার ২১ শতক জমি কিনে বিপাকে পড়েছেন চৌধুরী সানিয়া আলম নামে এক গৃহিণী। গত ১৩ আগস্ট প্রশাসনের মাধ্যমে নিলামে কেনা সম্পত্তির দখল বুঝে পাওয়ার পর থেকেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

সানিয়া আলমের দাবি, পত্রিকায় প্রকাশিত নিলাম বিজ্ঞপ্তি দেখে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তিনি জমিটি কিনেছেন। নিলামে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে সম্পত্তিটি কেনার পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে প্রশাসনের মাধ্যমে গত ১৩ আগস্ট তিনি জমিটির দখল বুঝে নেন।

তিনি বলেন, “আমি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে জায়গাটি নিলামে কিনেছি। আমি না কিনলে অন্য কেউ কিনতেন। এখানে আমার দোষ কী? অথচ জমিটি নিয়ে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে নানা কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। আমি এসব অপপ্রচার ও হয়রানির বিচার চাই।”

ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা হয়েছিল সম্পত্তি

সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নগরীর বাদুরতলা হারেজ শাহ আবাসিক এলাকার আরএস খতিয়ান-৮৯৬ এবং আরএস দাগ-৪০১-এর অন্তর্ভুক্ত মোট ১১ গণ্ডা জমির মালিক হিসেবে আব্দুল মাবুদের নাম রয়েছে।

জানা যায়, ওই সম্পত্তির বিপরীতে ১৯৯৩ সালে চিশতিয়া হক স্টোরের অনুকূলে আব্দুল মাবুদ অগ্রণী ব্যাংকের কাপাসগোলা শাখা থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ে ঋণের টাকা সুদসহ পরিশোধ না করায় ব্যাংক বন্ধকী সম্পত্তি আদায়ের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়।

একপর্যায়ে অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে বন্ধকী সম্পত্তিটি নিলামে তোলা হয়। নিলাম প্রক্রিয়া শেষে চৌধুরী সানিয়া আলম সম্পত্তিটি ক্রয় করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

দখল নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে ওই সম্পত্তি দখলে নেওয়ার জন্য একটি মহল বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে আসছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অগ্রণী ব্যাংকও বিষয়টি নিয়ে চকবাজার ও চান্দগাঁও থানায় অভিযোগ করেছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এদিকে নিলামের মাধ্যমে সম্পত্তি বিক্রির পর থেকেই জমির পূর্ব মালিক আব্দুল মাবুদ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি প্রাণভয়ে আত্মগোপনে বা অন্যত্র অবস্থান করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সানিয়া আলমের অভিযোগ, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি মহল এখন নিলামে সম্পত্তি কেনার কারণে তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তাকে ও আব্দুল মাবুদকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

থানায় অভিযোগ

হুমকি, চাঁদা দাবি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে নগরীর চকবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন সানিয়া আলম। অভিযোগে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সানিয়া আলম বলেন, “আমি কারও জায়গা দখল করিনি। ব্যাংকের নিলাম বিজ্ঞপ্তি দেখে আইন মেনে সম্পত্তিটি কিনেছি। নিলামের সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। এখন আমাকে ভয় দেখানো হচ্ছে, চাঁদা চাওয়া হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্মানহানিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তা চাই।”

ব্যাংকের বক্তব্য

এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংক কাপাসগোলা শাখার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “ঋণ আদায়ের বিষয়টি আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। বন্ধকী সম্পত্তি নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট আইন ও আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়।”

তবে নিলাম-পরবর্তী দখল ও বর্তমান বিরোধের বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্যের জন্য ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে [এখানে কর্মকর্তার পূর্ণ বক্তব্য যুক্ত করতে হবে]।

পুলিশের বক্তব্য

চকবাজার থানার একজন কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পূর্ণ বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

আইনজীবীর মন্তব্য

অর্থঋণ আদালতের নিলাম প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে আইনজীবী [নাম] বলেন, “আদালতের আদেশ ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিলামে কোনো সম্পত্তি বিক্রি হলে বৈধ প্রক্রিয়ায় ক্রয়কারী ব্যক্তি শুধু সম্পত্তি কেনার কারণে অপরাধী বা দখলদার হয়ে যান না। তবে নিলাম প্রক্রিয়ার বৈধতা, ক্রয়কারীর স্বত্ব এবং দখল হস্তান্তরের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আদালতের আদেশের আলোকে যাচাই করা প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে হুমকি, চাঁদা দাবি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর অপপ্রচারের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য

এদিকে সানিয়া আলম যাদের বিরুদ্ধে হুমকি, চাঁদা দাবি ও অপপ্রচারের অভিযোগ করেছেন, তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে [যোগাযোগের ফলাফল/তাদের বক্তব্য এখানে যুক্ত করতে হবে]।

অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, অর্থঋণ আদালতের আদেশ, নিলাম বিজ্ঞপ্তি, ব্যাংকের কাগজপত্র এবং থানায় দায়ের করা অভিযোগ পর্যালোচনা করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পক্ষ।

সানিয়া আলমের দাবি, তিনি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে জমি ক্রয় করেননি; বরং রাষ্ট্রীয় আইন ও আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিলামে অংশ নিয়ে সম্পত্তিটি ক্রয় করেছেন। তাই জমি কেনার কারণে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করা কিংবা ভয়ভীতি দেখানোর সুযোগ নেই। তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

আরো খবর দেখুন...
© All rights reserved © 2024 nagoriknewsbd
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: WhatHappen
jp-5d10b93919362ae286b3