চট্টগ্রাম ব্যুরো :
বিশেষ প্রতিনিধি: নথি গায়েব, জালিয়াতি আর দুর্নীতির পাহাড় গড়ে শেষ পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কড়া নজরদারিতে আটকে পড়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এটিএম সেলিম। তবে পার পেতে এখন দেশীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন তিনি। একই সাথে গোপনে দেশের অঢেল সম্পদ বিক্রি করে স্বপরিবারে বিদেশে পাড়ি জমানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তার ও তার পরিবারের সদস্যদের পাসপোর্ট জব্দের দাবি জানিয়েছেন বিপিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
নিয়োগেই স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতি অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে বিপিসিতে সহকারী ব্যবস্থাপক পদ শূন্য হলে তৎকালীন কোম্পানি সচিব কামার উদ্দিন—যিনি সেলিমের আপন চাচা—কোনো নিয়মকানুন বা প্যানেল না মেনে গোপনীয়তার সাথে সেলিমকে নিয়োগ দেন। এই বেআইনি নিয়োগের মাধ্যমেই যেন ‘আলাদিনের চেরাগ’ পান সেলিম।
বিপুল অবৈধ সম্পদের পাহাড় কয়েক বছরের ব্যবধানেই জাদুকরী ছোঁয়ায় বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান এই কর্মকর্তা:
চট্টগ্রামের সম্পত্তি: ফয়েস লেক আবাসিক এলাকায় শাশুড়ির নামে নির্মিত ৬ তলা বিলাসবহুল বাড়ি ‘জ্যোৎস্না’, চান্দগাঁও এলাকায় ৪ ইউনিটের বিশাল ৬ তলা ভবন এবং চকবাজারের প্রাণকেন্দ্রে কোটি টাকা মূল্যের ‘ইডিইএস’ (দোকান নম্বর-২২) নামের কাপড়ের দোকান।
রাজধানীর সম্পত্তি: ঢাকার অভিজাত এলাকা বনানীতে একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।
বিদেশে অর্থ পাচার: অজি বন্ধু আবদুল করিমের মাধ্যমে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার করে অস্ট্রেলিয়ায় বিলাসবহুল বাড়ি ও একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।
উন্নয়ন প্রকল্পে শতকোটি টাকার হরিলুট
মংলা অয়েল ইনস্টলেশন প্রকল্প: ২০৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকার অনুমোদিত বাজেটের বিপরীতে ২০৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা খরচ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়। অডিট প্রতিষ্ঠান ‘খান ওয়াহাব শফিক রহমান এন্ড কোম্পানি’ আপত্তি জানালেও হিসাব বিভাগ থেকে ভাউচার গায়েব করে দেওয়া হয়।
এসপিএম প্রকল্প: ইস্টার্ন রিফাইনারীর জমি অধিগ্রহণে ঘুষের বিনিময়ে সাধারণ ধান ক্ষেতকে (একর প্রতি ৩ লাখ) ‘পানের বরজ’ (একর প্রতি ৬৩ লাখ) দেখিয়ে ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার বেশি আত্মসাৎ করা হয়, যার প্রমাণ খোদ দুদকের তদন্তেই উঠে এসেছে।
সরকারি সম্পদের বেপরোয়া অপব্যবহার ২০২০ সালে র্যাবের অভিযানে ৬৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ঘুষের অর্থসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার হলে সেলিমের দুর্নীতির থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। এ ছাড়া সরকারি গাড়ি নিয়মবহির্ভূতভাবে পারিবারিক কাজে ব্যবহার, সন্তানের সাঁতার কাটতে চট্টগ্রাম ক্লাব বা র্যাডিসনে যাতায়াত এবং স্ত্রীর কেনাকাটায় ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
নথি গায়েব ও বিদেশে পালানোর চেষ্টার বিষয়ে জানতে এটিএম সেলিমের মুঠোফোনে কল ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো: মনজুর আলমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।