নবম জাতীয় বেতন স্কেল পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের আগে পূর্ববর্তী সরকারের দেওয়া ১৫ শতাংশ প্রণোদনা সমন্বয় না করার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের দাবি, নতুন পে-স্কেল কয়েক ধাপে বাস্তবায়িত হওয়ায় শুরুতে বেতন বৃদ্ধির সুফল সীমিত থাকবে। এ অবস্থায় প্রণোদনা সমন্বয় করা হলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মুদ্রাস্ফীতির চাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রকৃত আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির চট্টগ্রাম জেলা শাখার কাউন্সিল ও নবম পে-স্কেলবিষয়ক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে সর্বসম্মতিক্রমে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট চট্টগ্রাম জেলা কমিটিও ঘোষণা করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক দীর্ঘ ১১ বছর পর নবম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন করায় সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানান। তিনি দ্রুত পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি এবং পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, পে-স্কেল কেবল বেতন বৃদ্ধির বিষয় নয়; এটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমান, পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। কয়েক ধাপে বাস্তবায়নের কারণে শুরুতে বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ সীমিত থাকবে। এ অবস্থায় ১৫ শতাংশ প্রণোদনা সমন্বয় করা হলে কর্মচারীরা প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা পাবেন না। তাই নবম পে-স্কেল শতভাগ বাস্তবায়নের আগে প্রণোদনা সমন্বয় না করার দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই বাস্তবতায় তাদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমজীবী ইউনিয়নের সহসভাপতি মো. আলমগীর হোসেন, জর্জশিপ কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ, ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসাইন চৌধুরী, সমিতির কার্যকরী সভাপতি সাহাবউদ্দিন মুন্সী, সিনিয়র সহসভাপতি মো. শাহীন খান, সহসভাপতি মো. মনিরুজ্জামান, শ্রমিক দল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন এবং দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী সমিতি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক মো. বোরহান উদ্দিন।
পরে কাউন্সিল অধিবেশনে সমিতির মহাসচিব আশিকুল ইসলাম সর্বসম্মতিক্রমে ৫১ সদস্যের চট্টগ্রাম জেলা কমিটি ঘোষণা করেন। এতে চট্টগ্রাম রেলওয়ের পাহাড়তলী দপ্তরের মেহেদী হাসান সভাপতি এবং কর্ণফুলী গ্যাসের রফিকুল ইসলাম হাওলাদার সাব্বির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।