‘লট ক্রেতাদের কাছ থেকে নগদ টাকা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না’ — ‘স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচার’
সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ ও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে রাজস্ব জমা না দেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মনগড়া ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের হাটহাজারী রেঞ্জের সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা। তাকে হেয়প্রতিপন্ন ও সামাজিকভাবে মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি দৈনিক দিনকালসহ বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি ফেসবুক আইডিতে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে রাজস্ব জমা না দেওয়া, রাজস্ব আত্মসাৎ এবং রাজস্ব আদায়ে গড়িমসির অভিযোগে সংবাদ ও প্রচারণা চালানো হয়। এসব অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় এবং রাজস্ব রশিদ ছাড়া রাজস্ব আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।
তার দাবি, তার দায়িত্বকালে রশিদবিহীনভাবে কোনো রাজস্ব আদায় করা হয়নি। কোনো লট ক্রেতার কাছ থেকেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে বা তার কার্যালয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ গ্রহণ করেননি।
নিলামের রাজস্ব আদায় হয় নির্ধারিত প্রক্রিয়ায়
রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নিলামের শর্ত অনুযায়ী খাড়া গাছের নিলাম ও রাজস্ব আদায়ের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সে অনুযায়ী হাটহাজারী রেঞ্জ সরাসরি লট ক্রেতাদের কাছ থেকে খাড়া গাছের নিলামের রাজস্ব আদায় করে না। সংশ্লিষ্ট রাজস্ব আদায়ের কাজ শহর রেঞ্জের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে।
তিনি বলেন, “হাটহাজারী রেঞ্জের পক্ষ থেকে কোনো লট ক্রেতার কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করা হয়নি। কোনো লট ক্রেতা আমাকে নগদ অর্থ দিয়েছেন—এমন কোনো নজির নেই। তাহলে রাজস্ব আত্মসাতের প্রশ্নই বা আসে কীভাবে?”
তার দাবি, প্রকাশিত সংবাদেও কোনো লট ক্রেতার এমন বক্তব্য নেই যে তিনি রেঞ্জ কর্মকর্তাকে রাজস্ব বাবদ কোনো নগদ অর্থ দিয়েছেন।
বকেয়া রাজস্ব আদায়ে আগেই দেওয়া হয়েছে নোটিশ
রেঞ্জ কর্মকর্তার ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট লট ক্রেতাদের কাছে বকেয়া রাজস্ব আদায়ের জন্য এরই মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট লট ক্রেতারা বকেয়া রাজস্ব পরিশোধ করবেন বলে লিখিতভাবেও জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বকেয়া রাজস্ব থাকা এবং সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ করা এক বিষয় নয়। বকেয়া আদায়ের জন্য যখন নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টরা পরিশোধের অঙ্গীকার করেছেন, তখন সেটিকে রাজস্ব আত্মসাত হিসেবে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর।
‘আমার বক্তব্য নেওয়া হয়নি’
প্রকাশিত সংবাদগুলোর তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা। তার দাবি, সংবাদে কোনো লট ক্রেতা, ভুক্তভোগী কিংবা সংশ্লিষ্ট উপকারভোগী সদস্যের বক্তব্য নেওয়া হয়নি। এমনকি সংবাদ প্রকাশের আগে তার সঙ্গেও যোগাযোগ করে বক্তব্য নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ করা হয়েছে। অথচ সংবাদ প্রকাশের আগে আমার বক্তব্য নেওয়া হয়নি। কোনো লট ক্রেতা বা ভুক্তভোগীর বক্তব্যও সংবাদে নেই। তাহলে এসব অভিযোগের ভিত্তি কী?”
তার মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, সরকারি হিসাব, রাজস্ব রশিদ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। কিন্তু এসব যাচাই ছাড়াই সংবাদ প্রকাশ করায় প্রকৃত ঘটনা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
‘স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচার’
রেঞ্জ কর্মকর্তার অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন এবং তার পেশাগত ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এসব সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করেছে।
তবে ওই মহলের কারও নাম উল্লেখ করেননি তিনি।
রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, “আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সরকারি রাজস্বের সঙ্গে আমার কোনো অনিয়ম থাকলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও হিসাব যাচাই করা হোক। সত্যতা যাচাইয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই।”
‘সরকারের এক টাকা আত্মসাতের প্রমাণ দিলে চাকরি ছেড়ে দেব’
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আমি সরকারের একটি টাকাও রাজস্ব আত্মসাৎ করেছি—এমন প্রমাণ যদি কেউ দিতে পারেন, তাহলে আমি স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেব।”
তিনি আরও বলেন, সরকারি রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি লেনদেন নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা নথিপত্র ও সরকারি হিসাবেই প্রতিফলিত হওয়ার কথা।
যাচাই ছাড়া সংবাদ ও অপপ্রচার না করার আহ্বান
ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অভিযোগ বা সংবাদ প্রচার না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, “তথ্য-উপাত্ত ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা উচিত নয়। এতে শুধু একজন কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় না, সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কেও মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।”
প্রকাশিত সংবাদকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও মনগড়া দাবি করে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা।
তার দাবি, নিলামসংক্রান্ত সরকারি নথি, রাজস্ব আদায়ের রশিদ ও হিসাব, বকেয়া রাজস্ব আদায়ের নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট লট ক্রেতাদের লিখিত বক্তব্য যাচাই করলেই অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা স্পষ্ট হবে।