ঢাকা: ৪ ডিসেম্বর (২০২৫) — অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও এর শপথ পাঠের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) পর্যবেক্ষণসহ খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে এই আদেশ দেন।
এই আদেশের পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে নির্বাচন, বিচার ও সংস্কার—এই তিনটি ম্যান্ডেট-সম্পর্কিত বৈধতা নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “আজকে আপিল বিভাগ সর্বসম্মতিক্রমে বলেছেন তারা হাইকোর্টের রায়ের মধ্যে কোনো ভ্রান্তি, ভুল, বেআইনি কিছু পাননি। সুতরাং লিভ টু আপিল পর্যবেক্ষণসহ খারিজ করেছেন।” তবে পর্যবেক্ষণের পূর্ণাঙ্গ কপি তখনো হাতে আসেনি বলে তিনি জানান।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল মন্তব্য করেন, এই আদেশের ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে রিটের কোনো সারবত্তা থাকল না। প্রকারান্তরে, সরকার যে জনগণের মতামতের ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে, সেটাই স্থাপিত হলো।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “এই আদেশের ফলে এটি প্রতিষ্ঠিত হলো যে, বর্তমান সরকার জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে গঠিত সরকার (Will of the People)।” তিনি আরও বলেন, এই আদেশের মাধ্যমে সংবিধানের শূন্যতা বা ‘ভ্যাকুয়াম’ নিয়ে করা আরগুমেন্টের আর কোনো জায়গা থাকবে না
১. গণ-অভ্যুত্থান: গত বছরের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগ। ২. রাষ্ট্রপতির পদক্ষেপ ও রেফারেন্স: ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠন বিষয়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ (সুপ্রিম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার) অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের কাছে মতামত চেয়ে বিশেষ রেফারেন্স (১/২৪) পাঠান। ৩. আপিল বিভাগের প্রাথমিক মতামত (৮ আগস্ট): প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ মতামতে বলেন, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টা নিয়োগ ও তাদের শপথ পাঠ করাতে পারবেন। ৪. রিট ও হাইকোর্টের রায়: এই বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ রিট করেন, যা চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট বেঞ্চ খারিজ করে দেন। হাইকোর্ট রায়ে উল্লেখ করেন যে, সরকার আইনি দলিল এবং বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার দ্বারা সমর্থিত এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ইতিহাসের অংশ। রিটটি ‘ভ্রাান্ত ধারণা, বিদ্বেষপ্রসূত ও হয়রানিমূলক’ বলে খারিজ করা হয়। ৫. লিভ টু আপিল: হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মোহাম্মদ মহসিন রশিদ আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) করেন, যা আজ সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করলেন।
শুনানিতে অংশগ্রহণ: আবেদনকারীর আইনজীবীর পাশাপাশি লেখক ফিরোজ আহমেদের পক্ষে ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং ইন্টারভেনার হিসেবে রুহুল কুদ্দুস কাজল ও মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানিতে অংশ নেন।