তৃণমূলের ক্ষোভ: ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ নেতার দাপটে ম্লান হচ্ছে দলের ভাবমূর্তি
★প্রতিষ্ঠান ও জমি দখলের অভিযোগ
★বনবিভাগের জমি ও স্টাফদের হুমকি
★ভিটেবাড়ি দখল ও চাঁদাবাজি
★চিংড়ি প্রজেক্ট ও অস্ত্র উদ্ধার নাটক
★তৃণমূলের অস্বস্তি ও অতীত বিতর্ক
কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহেদুল মোস্তফার বিরুদ্ধে এলাকায় দখলবাজি, চাঁদাবাজি, বনবিভাগের কর্মকর্তাদের হুমকি এবং বিচার বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একের পর এক জমি দখল এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ফাঁসিয়াখালী ছড়াকুল আদর্শ ইসলামিক একাডেমীতে শাহেদুল মোস্তফার পিতা ১০শতক জমি দান করেছিলেন। কিন্তু শাহেদুল মোস্তফা সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়ার পরপরই ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি নিজের একক নিয়ন্ত্রণে নিতে তালাবদ্ধ করে রাখেন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে নূর হোছেন ও সাইদুর রশিদের ক্রয়কৃত প্রায় ৯ শতক জমি দখল করে ভবণ নির্মানের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে বনবিভাগের জমি ও স্টাফদের নিয়ে।ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের অধীনস্থ বনবিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজে বাধা প্রদান এবং তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি সংরক্ষিত বনভূমি ও এর আশপাশে সরকারি জমি নিজের আয়ত্তে রাখতে তিনি সংশ্লিষ্ট স্টাফদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছেন বলে জানা গেছে।
ছাইরাখালী ভরাচর এলাকায় ১৯৫০ সাল থেকে বসবাসকারী বনবিভাগের প্রজাদের ভিটেবাড়ি দখলের চেষ্টাও চালাচ্ছেন তিনি। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিটি বাড়ি থেকে দুই লক্ষ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। চাঁদা না দিলে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা কয়েক প্রজন্ম ধরে এখানে আছি। এখন রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাদের ভিটেমাটি কেড়ে নেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে।”
অভিযোগ রয়েছে, ফাঁসিয়াখালী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ৩৩ একর চিংড়ি প্রজেক্ট লিজ নেওয়া হলেও শাহেদুল মোস্তফা ও তার সহযোগীরা প্রায় ৭০ একর প্রজেক্ট এবং ২০ একর চাষযোগ্য জমি অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন। এমনকি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নিরীহ ব্যক্তির খড়ের গাদায় অস্ত্র রেখে নাটক সাজানোর মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।
তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে শাহেদুল মোস্তফাকে দেখা যায়নি। ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে তিনি হঠাৎ পদে আসীন হন। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ইতিপূর্বে গ্রামীণফোনে চাকরিরত অবস্থায় ধানমন্ডির একটি সমিতি থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে সেই অর্থ ফেরত দিতে তিনি বাধ্য হয়েছিলেন।
এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মনে করেন ত্যাগী কর্মীরা। এসব অভিযোগের বিষয়ে শাহেদুল মোস্তফার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপির কঠোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।