যমুনা অয়েল কোম্পানির অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক দায়িত্ব একই ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত থাকায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, মো. মাসুদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মানবসম্পদ, বিপণন এবং কোম্পানি সচিব—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন কমিটি ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থায় এককেন্দ্রিক প্রভাব তৈরি হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্ন তুলছেন একাধিক কর্মকর্তা।
নিয়োগ, পদোন্নতি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই তার প্রভাব রয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেনি।
একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ কিছু ঘটনায় অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো স্বাধীন তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়নি।
ফতুল্লা ডিপো থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল নিখোঁজের ঘটনায় কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের পদোন্নতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল—এমন অভিযোগও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনায় রয়েছে। পরে সরকারি পর্যায়ের হস্তক্ষেপে ওই সিদ্ধান্ত স্থগিত হয় বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রমনীতি বাস্তবায়ন, বদলি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকরের ক্ষেত্রেও টানাপোড়েনের অভিযোগ উঠেছে। কিছু ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৯৯৬ সাল থেকে যমুনা অয়েলে কর্মরত মো. মাসুদুল ইসলাম ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে উন্নীত হন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী ও ব্যবস্থাপনাগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার প্রশাসনিক অবস্থান ও প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে তার সম্পদ ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। চট্টগ্রামে আবাসিক ফ্ল্যাট, একাধিক প্লট, ডেইরি ফার্ম এবং শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে বিভিন্ন মহলে কথা উঠলেও এসব তথ্যের পূর্ণাঙ্গ যাচাই এখনো হয়নি।
জানতে চাইলে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. মাসুদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি সত্য নয়।” পরে তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।